রাত পোহালেই মহান বিজয় দিবস

: চলনবিলের সময়
প্রকাশ: 1 month ago

136

লাল-সবুজের পতাকায় উল্লাস, গৌরবের ইতিহাসে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়।রাত পোহালেই মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয়, গৌরবোজ্জ্বল ও আনন্দের দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাক হানাদার বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়। এই দিনে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ বিজয়ের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

মহান বিজয় দিবস কেবল একটি জাতীয় দিবস নয়, এটি ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার পথে এগিয়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখের বেশি নির্যাতিত মা-বোন এবং অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধাকে, যাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠেছে স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে গ্রহণ করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, বিজয় র‌্যালি, দোয়া ও প্রার্থনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ভোরের প্রথম প্রহরেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

এই দিনটি নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার এক অনন্য সুযোগ। বিজয়ের চেতনা মানে শুধু অতীত স্মরণ নয়; বরং সেই আদর্শকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার।

আজকের বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রযাত্রায় বিজয় দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা রক্ষা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্বাধীনতার সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াও অপরিহার্য। দুর্নীতি, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়াই হোক বিজয় দিবসের মূল শিক্ষা।

রাত পোহালেই উদিত হবে বিজয়ের সূর্য। লাল-সবুজের পতাকায় ভরে উঠবে আকাশ-বাতাস। বিজয়ের এই দিনে শপথ হোক—মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার।

মহান বিজয় দিবসের অশেষ শুভেচ্ছা।