
পটুয়াখালী জেলার মৌডুবী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বপূর্ণ যোদ্ধা শহীদ শাহজাহানের কবরপ্রাচীরে আজ গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক দোয়া অর্পণ করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের কান্ডারী, পটুয়াখালী-৪ আসনের জনপ্রিয় নেতা জনাব এবিএম মোশাররফ হোসেন। ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই হৃদয়স্পর্শী জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি শহীদের অমর বীরত্বকে স্মরণ করে জাতীয় ইতিহাসের অংশ হিসেবে চিরস্থায়ী করার প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেন। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনা ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা জুলাই শহীদ-যোদ্ধাদের প্রতি জনগণের অটুট শ্রদ্ধার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।জিয়ারতের আবেগময় মুহূর্তসমূহশহীদ শাহজাহানের কবরস্থানে পৌঁছে প্রথমে জননেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন ফাতেহা পাঠ করে শহীদের আত্মার মাগফেরাত প্রার্থনা করেন। তিনি কবরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ নীরব স্মরণে মগ্ন হয়ে পড়েন, যা উপস্থিত স্থানীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণের চক্ষু জলে ভিজিয়ে দেয়। শহীদ শাহজাহানের পরিবারের সদস্যরা এই মুহূর্তে জননেতাকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এমন শ্রদ্ধাঞ্জলি তাদের হৃদয়ের ক্ষত সান্ত্বনা প্রদান করছে। এই জিয়ারতের সময় উপস্থিত স্থানীয় ছাত্র-যুবকেরা শহীদের জন্য ওয়াকফ জারি করেন, যা এই অনুষ্ঠানকে আরও গভীরতর করে তোলে।শহীদ শাহজাহানের বীরত্বের স্মৃতিমৌডুবীর কৃতি সন্তান শহীদ শাহজাহান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য বীরত্ব দেখিয়ে দেশের স্বাধীনতা-অর্জনের অংশ হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ স্থানীয় যুব সমাজের কাছে চিরকালীন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে সবাই একমত। জননেতা মোশাররফ হোসেন জিয়ারতের সময় স্পষ্টভাবে বলেন, “শহীদ শাহজাহানের মতো বীর সন্তানদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীনভাবে শ্বাস নিচ্ছি। তাঁদের স্মৃতিকে আমরা কখনো ভুলব না এবং তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে কাজ করে যাব।” এই কথাগুলো স্থানীয় লোকজনের মনে নতুন আশা ও উদ্যম যোগাচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য,
ধানের শীষের নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেনের এই জিয়ারতকে পটুয়াখালী-৪ আসনের রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জুলাই যোদ্ধা-শহীদদের প্রতি তাঁর অটল শ্রদ্ধা প্রকাশ করছে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে এটি ব্যাপক সমর্থন লাভ করেছে এবং ধানের শীষের প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে। তিনি জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগকে ভুলে গিয়ে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা তাঁদের স্মৃতিকে সম্মান করে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নতি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব।” এই প্রতিশ্রুতি পটুয়াখালীর সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে।স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ামৌডুবী ইউনিয়নের স্থানীয় নাগরিকরা এই জিয়ারতকে অভূতপূর্ব বলে মন্তব্য করেছেন। একজন বয়স্ক নাগরিক বলেন, “মোশাররফ ভাইয়ের এমন স্মরণীয় উপস্থিতি আমাদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। এটি শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধার প্রমাণ।” ছাত্র সংগঠনের নেতারা এই ঘটনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করেছেন। স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার আলেমরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শহীদের জন্য দোয়া করেন, যা এই জিয়ারতকে ধর্মীয় ও সামাজিক মাত্রা যুগপৎ প্রদান করেছে। এই ঘটনা পটুয়াখালী জেলার অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হচ্ছে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আহ্বানজননেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, শহীদ শাহজাহানের কবরস্থানকে আরও সাজসজ্জা ও সম্মানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন, জুলাই শহীদ-যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে সকলে ঐক্যবদ্ধ হোন। এছাড়া, পটুয়াখালী-৪ আসনের উন্নয়নের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হয়। এই জিয়ারতের মাধ্যমে ধানের শীষের প্রচারণা নতুন গতি লাভ করেছে এবং জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এটি আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।