হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক ইনকিলাব মঞ্চের

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 4 hours ago

17

ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাবের বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং বিভাগীয় শহর, ইউনিয়ন, গ্রামে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার ব্যাপারে আপনারা আগামীকাল বিক্ষোভ মিছিল এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ কর্মসূচি পালন করুন। পুরো বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে আহ্বান করছি, আপনারা এই কর্মসূচি সফল করুন। শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও গ্রেপ্তারের জন্য এটা নিশ্চিত করুন।

সাগর-রুনির মতো যাতে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন তারিখের পর তারিখ না যায় তা উল্লেখ করে জাবের বলেন, যদি এমনটাই হয়, তাহলে আপনাদেরকেও জানিয়ে রাখি, আপাতত বিক্ষোভ মিছিল; এর পরের দিন হয়তো অবরোধ, এর পরের দিন যমুনা ঘেরাও, এরপরের দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও, এরপরের দিন হয়তো আমরা সংসদ ভবন ঘেরাও করব।

জাবের আরও বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের যেই চার্জশিট গঠিত হয়েছে, সেটার একটা পর্যালোচনা শুনানি ছিল। এর আগে, গত ১২ তারিখে তার প্রথম শুনানি ছিল এবং এজাহারকারীর পক্ষে রাষ্ট্রকে সহায়তা করার জন্য আইনজীবীরা রাষ্ট্রের কাছে দুই দিন সময় চেয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজকে এই চার্জশিটটির পর্যালোচনা শুনানি হয়েছে এবং সেখানে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে নারাজি দেওয়া হয়েছে। তারা যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে কোর্টে, আইনজীবীদের মাধ্যমেই ইনকিলাব মঞ্চ এবং তার পক্ষ থেকে এই ব্যাপারটাতে নারাজি দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রের কোনো ধরনের আন্তরিকতা, কোনো ধরনের সদিচ্ছার প্রতিফলন আমরা শহীদ ওসমান হাদির হত্যার ব্যাপারে দেখছি না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন রাষ্ট্র কর্তৃক তদন্তের মাধ্যমে যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, সেটা সম্পর্কে আপনাদেরকে একটু জানাতে চাই। প্রথমত, এই যে মামলাটা, সেখানে যে তদন্ত করা হয়েছে একদম পুরোটাই অস্পষ্ট ভরপুর এবং যাদেরকে আসামি করা হয়েছে, মূল কোন আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যারা এই হত্যার পরিকল্পনা করেছে, তাদের সম্পর্কে কোনো ধরনের তথ্য এই চার্জশিটে উল্লেখ করা হয় নাই। তারা এখানে উল্লেখ করেছে যে, শহীদ ওসমান হাদি মাঝেমধ্যে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে বক্তব্য দিত, তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শহীদ উসমান হাদিকে গুলি করেছে। ওসমান হাদিকে যদি ক্ষিপ্ত হয়েই গুলি করা যায় বা গুলি করতে হয়, তাহলে এতদিন সময় নেওয়ার তো দরকার নাই, শত কোটি টাকারও তো দরকার নাই। এরপরে হচ্ছে দুই মাস কালচারাল সেন্টার ও বিভিন্ন জায়গায় তাকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখারও দরকার নাই। এই পুরোটা একটা খুনি চক্র করেছে যেটা এই চার্জশিটে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিবির পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে যে ওসমান হাদিকে হত্যা করবার জন্য ১২ তারিখেই ওইখানে পাঁচটা টিম ছিল। যারা একজন মিস করলে আরেকজন এই শুটটা করত। তাহলে এই চার্জশিটে বাকি চারটা গ্রুপের কথা কই? যেই চারটা গ্রুপ বসেছিল শুট করবার জন্য। ৫ তারিখে তারা বলেছে যে সেন্টারেও তারা হচ্ছে গুলির এটেম্পট নিয়েছে কিন্তু তারা সেটাতে সক্ষম হয় নাই। ২১ জনের একটা টিম এই মিশনে গিয়েছিল। তাহলে সেই ২১ জনের যেই মিশনের যেই টিমটা গিয়েছিল, তারা কোথায়? তারা চার্জশিটের ভেতরে নাই কেন?

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।