
সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ভালোবাসা অনুভূতির বিষয় হলেও বাস্তব জীবনে অর্থনৈতিক সক্ষমতা এর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। টাকা না থাকলে ধীরে ধীরে ভালোবাসাও দুর্বল হয়ে যায়—এ কথা এখন আর শুধু কথার কথা নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।
বর্তমান সময়ের কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক সম্পর্ক চাপের মুখে পড়ছে। অর্থের অভাব পারিবারিক কলহ, মানসিক দূরত্ব এবং সম্পর্কের ভাঙনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোবাসা টিকে থাকার জন্য শুধু আবেগ নয়, বরং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজন হয়। আর এই স্থিতিশীলতার বড় অংশজুড়ে রয়েছে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। যখন মৌলিক চাহিদা পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন ভালোবাসার জায়গায় জন্ম নেয় হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
তরুণ সমাজের মধ্যেও এর প্রভাব স্পষ্ট। কর্মসংস্থানের অভাব ও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে অনেক সম্পর্ক মাঝপথে থেমে যাচ্ছে। অনেকে ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে বাস্তবতার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সামাজিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, বাস্তবতা সবসময় অর্থের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। ভালোবাসা শক্তিশালী অনুভূতি হলেও কঠিন বাস্তবতার চাপে তা অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।
অতএব, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আবেগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সচেতনতা ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা জরুরি—এটাই আজকের বাস্তবতা।