ভাঙ্গুড়ায় বৃদ্ধকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম পিটুনি, পানি চেয়েও পাননি

: ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 2 weeks ago

27

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে ইন্তাজ আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে নির্জন স্থানে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তিনি পানি চাইলে হামলাকারীরা তাকে পানি পর্যন্ত দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের নুরনগর গ্রামের নদীপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরনগর গ্রামের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে ইন্তাজ আলীর সঙ্গে তার পিতার চাচাতো ভাইদের ওয়ারিশ সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে ইন্তাজ আলী তার প্রাপ্য অংশের একটি বাঁশবাগান থেকে কয়েকটি বাঁশ কাটেন।
এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে নুরনগর গ্রামের রহমের ছেলে শেরে বাংলা, হাবিব, জাকারিয়া, আহাম্মেদ আলীর ছেলে ফরিদ এবং জিল্লুর রহমানের ছেলে মাসুদ একত্রিত হয়ে ইন্তাজ আলীকে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে গ্রামের অদূরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের ফলে ইন্তাজ আলীর মাথা, কোমর ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এক পর্যায়ে তিনি তীব্র তৃষ্ণায় পানি পানি বলে চিৎকার করলেও হামলাকারীরা তাকে পানি পান করতে দেয়নি।
ইন্তাজ আলীকে দীর্ঘ সময় না দেখে তার স্ত্রী খোঁজ নিতে বের হন। পরে তিনি স্বামীর বাড়ির অদূরে নির্জন স্থানে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মারধরের দৃশ্য দেখতে পান। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে এবং বিবস্ত্র করার অভিযোগ ওঠে। তিনি কোনোমতে পালিয়ে গিয়ে নায়েব আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুরো ঘটনা জানান।
পরে নায়েব আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে ইন্তাজ আলীকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে হামলাকারীদের বাধার মুখে ব্যর্থ হন। এরই মধ্যে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল দূরে থাকায় পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নায়েব আলী রাস্তায় উঠে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ইন্তাজ আলীকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “একজন বৃদ্ধকে এভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও হৃদয়বিদারক।”
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।