গাজা দখলে নতুন নীলনকশা অনুমোদন ইসরায়েলের

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 13 hours ago

14

গাজার আরও বিপুল এলাকা দখলের জন্য নতুন আইনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে এ আইন অনুমোদন করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পক্ষ।

রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও ভূমি দখলকে বৈধতা দেওয়ার ‘খোলামেলা চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দপ্তর যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস পশ্চিম তীরের জনগণকে ‘দখলদার বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করার’ আহ্বান জানিয়েছে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ‘অবৈধ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার’ এবং বসতি স্থাপন আরও পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের ফলে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের জন্য পশ্চিম তীরে জমি কেনা সহজ হবে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর আইন প্রয়োগে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও বাড়বে। পশ্চিম তীর, গাজা ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এই ৩টি অঞ্চলকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। বর্তমানে পশ্চিম তীরের বড় একটি অংশ ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কিছু এলাকা সীমিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) পরিচালনা করে আসছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট ও হারেৎজ জানিয়েছে, নতুন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে পশ্চিম তীরে ইহুদি ব্যক্তিদের জমি কেনার ওপর থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি কিছু ধর্মীয় স্থানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে নেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদার করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম বলেন, ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুতর সংযুক্তিকরণের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, এই নিয়ম অনুযায়ী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে জমির মালিক হতে পারবেন।

ইব্রাহিম জানান, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক আইনে দখলদার শক্তির নিজ নাগরিকদের দখলকৃত ভূখণ্ডে বসবাস নিষিদ্ধ। তবুও নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রামাল্লার মতো শহরের কেন্দ্রেও বসতিস্থাপনকারীদের ঘর নির্মাণে কার্যত কোনো বাধা থাকছে না।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা কেবল এ ও বি এলাকায় ঘর নির্মাণের সীমিত সুযোগ পান। কিন্তু সি এলাকায় কোনো নির্মাণ হলেই ইসরায়েল তা ভেঙে দেয়। এই এলাকাতেই বসতিস্থাপনকারীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দিতে থাকব। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, বসতি স্থাপনকে আমরা সরকারের অবিচ্ছেদ্য নীতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছি।

ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ বলেন, পশ্চিম তীরে সংযুক্তিকরণ জোরদারের এসব পদক্ষেপ সব ধরনের স্বাক্ষরিত ও বাধ্যতামূলক চুক্তির লঙ্ঘন। এটি আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব একতরফা সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ধ্বংস করে দেবে এবং পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে।