পৃথিবীর কেন্দ্রে ৪৫ মহাসাগরের সমান অপরিহার্য উপাদানের সন্ধান

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 8 hours ago

13

পৃথিবীর কেন্দ্রে অন্তত ৪৫টি মহাসাগরের সমান জীবনের অপরিহার্য উপাদান হাইড্রোজেনের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর পৃষ্ঠের মহাসাগরগুলো প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গা দখল করে রেখেছে। কিন্তু এর অভ্যন্তরে সব মহাসাগরের ৯ গুণ জায়গাজুড়ে রয়েছে হাইড্রোজেন।

মঙ্গলবার ন্যাচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর কেন্দ্রের মোট ওজনের প্রায় শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত হাইড্রোজেন হতে পারে। গবেষণার প্রধান লেখক, পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ডংইয়াং হুয়াং জানান, এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, পৃথিবী গঠনের প্রাথমিক পর্যায়েই অধিকাংশ পানি গ্রহে যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ধূমকেতুর আঘাতে এমনটি ঘটেনি।

তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম এক মিলিয়ন বছরের মধ্যেই অধিকাংশ পানি কেন্দ্রে সঞ্চিত হয়েছিল। পৃষ্ঠের যে অংশে জীবন রয়েছে, সেখানে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম পানি রয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

পৃথিবীর কেন্দ্র মূলত লোহা ও নিকেল দিয়ে গঠিত একটি উষ্ণ ও ঘন তরল স্তর। এটি আমাদের গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে ঠিক কতটা হাইড্রোজেন রয়েছে তা জানার চেষ্টা করছেন। তবে কেন্দ্র অত্যন্ত গভীরে হওয়ায় সরাসরি পর্যবেক্ষণ সম্ভব নয়। এছাড়া এর চাপ-তাপমাত্রা ল্যাবে পুনর্নির্মাণ করাও কঠিন।

হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা ও ক্ষুদ্র মৌল হওয়ায় তা পরিমাপ করাও জটিল। আগের গবেষণাগুলো এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন পদ্ধতিতে লোহার স্ফটিক কাঠামোর পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে অনুমান করা হয়েছিল। তবে এসব ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল। বর্তমানে এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘ডায়মন্ড অ্যানভিল সেল’ ব্যবহার করে পৃথিবীর কেন্দ্রের উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার অনুকরণ করেন। লেজার দিয়ে লোহা গলিয়ে ‘অ্যাটম প্রোব টোমোগ্রাফি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরমাণুস্তরে ত্রিমাত্রিক চিত্র ও রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শীতল হওয়ার সময় লোহায় হাইড্রোজেন, সিলিকন ও অক্সিজেনের অনুপাত প্রায় ১:১ ছিল। গবেষণায় তারা পূর্ববর্তী সিলিকনের পরিমাণের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে কেন্দ্রে মোট হাইড্রোজেনের পরিমাণ অনুমান করেন।

গবেষকরা বলছেন, এই হিসাব পরোক্ষ পদ্ধতিতে করা হয়েছে এবং কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। যেমন- নমুনা থেকে চাপ কমানোর সময় কিছু হাইড্রোজেন বেরিয়ে যেতে পারে। এসব বিষয় গণনায় ধরা হয়নি।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেই হিরোসে বলেন, তার আগের গবেষণায় কেন্দ্রের ওজনের শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হাইড্রোজেনের কথা বলা হয়েছে। এটি নতুন গবেষণার হিসাবের কাছাকাছি বা কিছু ক্ষেত্রে বেশি।

হাইড্রোজেন জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য মৌলগুলোর অন্যতম হলো কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার ও ফসফরাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই গবেষণার ফলাফল সঠিক হয়, তবে তা গ্রহ গঠন ও পৃথিবীতে জীবনের বিকাশ সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।

গবেষক রাজদীপ দাসগুপ্ত বলেন, এই গবেষণা পৃথিবীর গঠন ও জীবনের বিকাশে উদ্বায়ী মৌলগুলোর ভূমিকা নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।