মাধ্যমিকের গণিত-ইংরেজিতে শিখন বিপর্যয়

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 8 hours ago

13

মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের গণিত ও ইংরেজিতে ভয়াবহ দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত কনসালটেশন কমিটির এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী এই দুই বিষয়ে ন্যূনতম দক্ষতাও অর্জন করতে পারছে না। জরিপ অনুযায়ী ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে কাঙ্ক্ষিত অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে গণিতে উচ্চ দক্ষতা রয়েছে এমন শিক্ষার্থীর হার মাত্র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত কনসালটেশন কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন তুলে দেন কমিটির আহ্বায়ক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনসুর আহমদ। এ সময় কমিটির সদস্য সচিব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব তরফদার আক্তার জামিলসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কনসালটেশন কমিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি, এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের মোট ৪৩৭ জন অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ওপর বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ৫০ নম্বরের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়। এতে দেখা যায়, বাংলা বিষয়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী অংশ নিলেও ইংরেজিতে অংশগ্রহণ কম এবং গণিতে পুরো প্রশ্ন সমাধানের চেষ্টা করেছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে ‘শিখন বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্তরে ভিত্তিমূলক জ্ঞান দুর্বল থাকায় শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকের উচ্চতর পাঠ্যক্রমের সঙ্গে তাল মিলাতে পারছে না। পাশাপাশি মুখস্থনির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণের অভাব এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

শহর ও গ্রামের মধ্যে শিক্ষাগত বৈষম্যও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। শহরের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও উপকূলীয় অঞ্চল, চরাঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে গণিতের গড় অর্জন সবচেয়ে কম। এছাড়া মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রভাবও লক্ষণীয়; উচ্চশিক্ষিত মায়ের সন্তানরা তুলনামূলক ভালো ফল করছে।

২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও এই দুর্বলতার প্রতিফলন দেখা যায়। ওই পরীক্ষায় পাসের হার ছিল মাত্র ৬৮ শতাংশ এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় অংশই ফেল করেছে গণিত ও ইংরেজিতে। পরিস্থিতি উত্তরণে কনসালটেশন কমিটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন ও মাধ্যমিক শিক্ষা টাস্কফোর্স গঠন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভাগ বিভাজন বাতিল এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাময়মূলক শিক্ষা চালুর সুপারিশ করেছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক স্তরের এই শিখন ঘাটতি দ্রুত দূর করা জরুরি।