সিরাজগঞ্জে রণক্ষেত্র, আহত ৩০

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 7 hours ago

24

সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের রেললাইনে বসবাসরত দুই জায়ের পারিবারিক ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মাহমুদপুর ও মিরপুর মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। টানা দুই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেললাইনের পাশে বসবাসরত কাইয়ুমের স্ত্রী ও তার ছোট ভাই সিয়ামের স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। গত পরশু কুকুরছানা নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একজনের বাড়ি মাহমুদপুর মহল্লায় এবং অন্যজনের বাড়ি মিরপুর মহল্লায় হওয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রামের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। একপর্যায়ে তা দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

গত দুই দিনে দফায় দফায় সংঘর্ষে নদীভাঙনের কারণে রেললাইনের পাশে বসবাসরত নিরীহ মানুষের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি কুপিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। গত রাতেও আলো নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রেললাইনের পাথর ছোড়াছুড়িতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কাইয়ুমের স্ত্রী সনি জানান, আমার দেবর সিয়ামের স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সেদিন কুকুরছানা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সে তার বাবার বাড়ির লোকজন নিয়ে এসে আমাকে মারধর করে। পরে আমার স্বামী তাদের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এরপরই দুই গ্রামের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। বর্তমানে তার স্বামী কাইয়ুম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাহমুদপুর মহল্লার বাসিন্দা রিয়াল বলেন, সংঘর্ষে শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা মূলত নদীভাঙনের শিকার হয়ে এখানে বসবাস করছিলেন। দুই গ্রামের মাঝামাঝি থাকায় তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দুই এলাকায় গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।