বাগমারায় জামায়াতের প্রথম জয়, এমপি হিসেবে শপথ নিলেন ডাঃ আব্দুল বারী

: সিদ্দিক আলী ( রাজশাহী) জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 15 hours ago

74

রাজশাহী–৪ (বাগমারা) আসনে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনীত প্রার্থী ডাঃ আব্দুল বারী সরদার বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এ ফলাফল নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করেছে।স্বাধীনতার পর বাগমারা আসনটি মূলত প্রধান দুই দলের দখলেই ছিল।১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সরদার আমজাদ হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।সে সময় জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল আহাদ কবিরাজ অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির মনোনীত সাবেক সচিব আবু হেনা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দলটির সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করেন।২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হয়ে আসনটি দলটির দখলে রাখেন।দীর্ঘ সময় ধরে এ আসনকে তাই দ্বি–দলীয় আধিপত্যের কেন্দ্র হিসেবেই দেখা হতো।২০২৬ সালের নির্বাচনে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। জামায়াত প্রার্থী ডাঃ আব্দুল বারী সরদারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।শুরু থেকেই প্রচারণা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী (পোস্টাল ভোটসহ) ডাঃ আব্দুল বারী সরদার পান ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট।তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট। প্রায় ৫ হাজার ৭৬৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত হয়।ফলাফল ঘোষণার পর বাগমারার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ–উচ্ছ্বাস দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্রিয়তা,স্থানীয় ইস্যুভিত্তিক প্রচারণা,পেশাজীবী পরিচিতি এবং পরিবর্তনমুখী ভোটার মনোভাব এ ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।সব মিলিয়ে,বাগমারায় জামায়াতের এই প্রথম জয় শুধু একটি আসনের বিজয় নয়,বরং দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ধারায় পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।