একুশে পদক-২০২৬ প্রদান চার তারকার গৌরবময় মুহূর্ত

: বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: 12 hours ago

12

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক-২০২৬ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা প্রদান করেন তিনি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে। এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন—চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ, নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ, সংগীত দল হিসেবে ‘ওয়ারফেজ’।

আজ সকালে একুশে পদক গ্রহণ করতে ওসমানী মিলনায়তনে হাজির হন পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এদের মধ্যে শোবিজ অঙ্গনের সুপরিচিত মুখ ববিতা, নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ, ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সংগীত দল হিসেবে ‘ওয়ারফেজ’ সদস্যরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক। পদকপ্রাপ্তিতে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন গণমাধ্যমে। এ ছাড়া মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্ত আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।

ববিতা : আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ করার পর বিশ্বের নানান জায়গায় সম্মানিত হয়েছেন। নিজ দেশে বহুবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। ডালাসের মেয়রের কাছ থেকেও পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক গ্রহণ করেন তিনি। অনুভূতি ব্যক্ত করে ববিতা বলেন, ‘আমি অনেক খুশি, অনেক বেশি আনন্দিত। কেননা, ভাষার মাসে একুশে পদক পেয়েছি। এ মাসে একুশে পদক প্রাপ্তি আমার জীবনেরও বড় প্রাপ্তি। অনেক বেশি সুখের অনুভূতি কাজ করছে।’ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞ্যাপন করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার অভিনয় জীবনের সব সহশিল্পী এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাংবাদিকদের ভূমিকাও কম নয়, তাদের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা। আমার মা বাবা, ভাই-বোনদের প্রতিও ভালোবাসা জানাচ্ছি। আমার সব পরিচালকদের প্রতি গভীর ভালোবাসা।

ইসলাম উদ্দিন পালাকার : গ্রামের মঞ্চে মঞ্চে পালা করে বেড়িয়েছেন ইসলাম উদ্দিন। স্বপ্ন ছিল পালাকার হিসেবে এই সংস্কৃতির শিকড় মজবুত করা। তাই তো স্বপ্ন সারথির খোঁজে কখনো পিছু হটেননি। দেশের নানা প্রান্তের গ্রামে মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে আছে তার শিল্প। এভাবেই তিনি নিজেকে আবিষ্কার করলেন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। সেখানেও ছড়িয়েছেন সংস্কৃতির সুবাতাস। বড় মঞ্চের আলো নয়, মাটির গন্ধেই তার আসল ঠিকানা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনিও গ্রহণ করেছেন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক। লোকজ সংস্কৃতি আর পালাগানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তার হাতে এ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একুশে পদক পাওয়ায় রাষ্ট্রের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি গ্রামবাংলার শিল্পী। সেখানেই থাকতে চাই। গ্রামই আমার প্রেরণা। যারা সন্ধ্যায় মাঠে বসে আমার পালা শোনেন, হাততালি দেন, চোখ ভেজান—তারাই আমার শক্তি।

অর্থী আহমেদ : নৃত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘একুশে পদক ২০২৬’ পেলেন অর্থী আহমেদ। গতকাল তারেক রহমানের কাছ থেকে পদকটি গ্রহণ করেন অর্থী। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এত অল্প বয়সে এত বড় একটা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার আমাকে দেওয়া হয়েছে। সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি যারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন তাদের প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার গুরু লুবনা মরিয়মের প্রতি। এ ছাড়া আমি কৃতজ্ঞ আমার শিক্ষার্থীদের প্রতি, যারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, বিশ্বাস রেখে আমার সঙ্গে কাজ করে আসছেন।’ অর্থীর একুশে পদক প্রাপ্তিতে তরুণরা অনুপ্রাণিত হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমার অল্প বয়সে পদক নিঃসন্দেহে তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে। তারা ভাববে, ভালো কাজ সততার সঙ্গে করলে স্বীকৃতি আসে। আরও মনে হয়, মানুষের ভালো থাকার মাধ্যম হিসেবে নাচটাকে বেছে নিচ্ছে, এই ভাবনা আরও ছড়াবে। ছোটবেলায় যারা নানা কারণে নাচ ছেড়ে দিয়েছিল, তারাও উৎসাহ পাবে।’

ওয়ারফেজ : একুশে পদক গ্রহণ উপলক্ষে এবার একত্রিত হয়েছেন ‘ওয়ারফেজ’ ব্যান্ডের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা একত্রিত হয়েছেন। কেউ এসেছেন কানাডা থেকে, কেউ যুক্তরাষ্ট্র থেকে, কেউ চীন থেকে। এই সম্মাননা গ্রহণ নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ব্যান্ডের দলনেতা শেখ মনিরুল আলম টিপু। দলনেতা হিসেবে মঞ্চে ওঠে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন তিনি। এরপর পদক নিয়ে রিকশা করে উচ্ছ্বাস করতে করতে ফেরেন দলের সদস্যরা। সামাজিক মাধ্যমে এর বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়। টিপু বলেন, ‘বহু বছর পর সবাই একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এ পদককে ঘিরেই। পুরো বিষয়টি ঘিরে তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস কাজ করছে। আমরা কিন্তু কেউই এই পদকের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। একুশে পদক পাওয়া ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বাংলাদেশে আরও অনেক যোগ্য শিল্পী ও ব্যান্ড থাকা সত্ত্বেও প্রথমবার কোনো ব্যান্ড হিসেবে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। এ অর্জনকে আমাদের ব্যান্ডের প্রত্যেক সদস্য গর্ব ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।