
স্থগিত হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৪ এপ্রিল। নগরের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
চেম্বারের ২৪টি পরিচালক পদের মধ্যে এবার ১৮টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ৬টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সেগুলোতে ভোটগ্রহণ হবে না।
চট্টগ্রাম চেম্বারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ অক্টোবর স্থগিত হওয়া নির্বাচন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মারকের আইনগত মতামতের ভিত্তিতে আগামী ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের মোট ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ হবে।
চেম্বারের নির্বাচন বোর্ডের প্রধান ও চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদে মোট ২৪ জন সদস্য থাকবেন। টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ৬টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সেগুলোতে ভোট হবে না। বাকি ১৮টি পদে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে পরিচালক নির্বাচিত হন। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।
সর্বশেষ এই চেম্বারে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। এরপর থেকে সব কমিটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গঠিত হয়েছে। গত বছরের ১১ আগস্ট তপশিল ঘোষণার পর দীর্ঘদিন পর ভোটের আশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। প্রথম দফায় গত বছরের ১ নভেম্বর ভোট হওয়ার কথা থাকলেও ভোটার শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ এফবিসিসিআই ও আদালতের দ্বারস্থ হলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।
অন্যদিকে, নির্বাচনের বর্তমান তপশিল স্থগিত করে নতুন তপশিল ঘোষণার দাবি উঠেছে। হার্বিস কনভার্টিং লিমিটেড ও চট্টগ্রাম গার্মেন্টস এক্সেসরিজ গ্রুপ (সিজিএজি) পৃথক চিঠির মাধ্যমে সিসিসিআই নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে এ দাবি জানিয়েছে।
হার্বিস কনভার্টিং লিমিটেডের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সিসিসিআই নির্বাচন প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন একটি সিভিল পিটিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ৪ এপ্রিল নির্বাচন আয়োজন আদালতের অবমাননার শামিল হতে পারে বলে তারা দাবি করেছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নতুন তপশিল ঘোষণারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম গার্মেন্টস এক্সেসরিজ গ্রুপ (সিজিএজি) তাদের আটজন ডেলিগেট সদস্যকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা নিয়মিত সদস্যপদ নবায়নসহ প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করে আসছে। তাই তাদের সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা উচিত।
এ বিষয়ে পাঠানো চিঠির অনুলিপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক এবং চেম্বারের প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। সংগঠনগুলো আশা প্রকাশ করেছে, সব যোগ্য সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বারের পুরো পর্ষদ পদত্যাগ করে। এরপর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন।