বিয়ের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা, স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর সংবাদ সম্মেলন

: ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 8 hours ago

25

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় লাবিবা আক্তার নামের এক নারী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিয়ের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী মো. আরিফ বিল্লাহ।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী আরিফ বিল্লাহ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মসজিদের ইমাম।

সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বিল্লাহ জানান, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে সদরপুরের লখারকান্দি এলাকার লুৎফর রহমান মোল্লার মেয়ে লাবিবা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে।

আরিফের অভিযোগ, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি যখন মসজিদে নামাজ পড়াতে যান, সেই সুযোগে লাবিবা সন্তানদের রেখে বাসা থেকে চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন লাবিবা অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন।

আরিফ বিল্লাহর দাবি, আদালতের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন লাবিবা এর আগেও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ের নাটক করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০১২ সালে নগরকান্দার মনির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। পরে তার বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে ২০১৫ সালে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন লাবিবা। এরপর রাজবাড়ীর মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা তারিকুল ইসলামকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে দেনমোহর বাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তার (আরিফ) বিরুদ্ধেও ফরিদপুর আদালতে দুটি যৌতুক মামলা করা হয়, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে মাদারীপুর আদালতে আরেকটি সিআর মামলা (নং- ২৩৩) বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে আরিফের বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাইদেরও আসামি করা হয়েছে।

আরিফ বিল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বিয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ লাবিবা স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সুদে বিনিয়োগ করেছেন। এরমধ্যে রোকছানা বেগমের কাছে ৯ লাখ এবং হান্নান মোল্লার কাছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগের তথ্য তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া সম্প্রতি কিছু ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে লাবিবা তার বাড়িতে গিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছেন এবং টাকা না দিলে মানহানিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বিল্লাহ বলেন, এই নারী ও তার পরিবারের ধারাবাহিক প্রতারণায় আমি সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত কেউই কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।