ভাঙ্গুড়ায় মেধাবী শিক্ষার্থী রিজয়ান হোসেন এর রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে চান্স

: বিশেষ প্রতিবেদক (ভাঙ্গুড়া) পাবনা
প্রকাশ: 3 hours ago

37

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে সুযোগ পেয়ে উজ্জ্বল করল এলাকার মুখ। পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী রিজওয়ান হোসেন (রোহান) তার অসাধারণ মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এক অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ–এ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সুযোগ লাভ করে সে নিজের পরিবার, বিদ্যালয় এবং পুরো এলাকার জন্য গর্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

রিজওয়ানের পিতা মোঃ আল মামুন হোসেন এবং মাতা মোছাঃ রেশমা খাতুন। শিক্ষানুরাগী এই পরিবারের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণার মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই রোহান পড়াশোনার প্রতি গভীর মনোযোগী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও স্বপ্নবান একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিল।
তার শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে শরৎ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ। ২০২৩ সালে এই বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করার সময় থেকেই তার মেধা ও সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিবারের উৎসাহ এবং নিজের অদম্য পরিশ্রমের ফলে সে ধাপে ধাপে এগিয়ে গিয়ে অবশেষে দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় সফল হয়ে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে জায়গা করে নেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাডেট কলেজে ভর্তির এই সাফল্য কেবল একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নয়; এটি ভবিষ্যতের নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা ও মেধার বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। হাজারো প্রতিযোগীর ভিড়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে রোহান দেখিয়ে দিয়েছে—স্বপ্ন যদি বড় হয় এবং পরিশ্রম যদি অবিরাম হয়, তবে প্রত্যন্ত গ্রামের মাটিতেও জন্ম নিতে পারে আগামী দিনের নেতৃত্ব।
রোহানের এই কৃতিত্বে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “রোহান শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছাত্র ছিল। তার এই সাফল্য আমাদের জন্য গর্বের এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।”
অন্যদিকে সন্তানের এই অর্জনে আবেগাপ্লুত বাবা-মা মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চাই আমাদের সন্তান একজন সৎ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হয়ে দেশের জন্য কাজ করুক।”
আজ ভাঙ্গুড়ার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে রোহানের সাফল্য যেন নতুন এক স্বপ্নের আলো জ্বালিয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মেধাবী শিক্ষার্থী একদিন দেশের গর্ব হয়ে উঠবে এবং তার সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবে।