জামালপুরে তুমুল সংঘর্ষ

: ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 16 hours ago

36

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বাস মালিক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত আটটার দিকে বাসের আয়ের হিসাব নিয়ে বিরোধ ও পরিবহন খাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার শিমলা বাজার বাসস্ট্যান্ড ও থানা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- তাইয়্যবা পরিবহনের মালিক তারা মিয়া (৫০) ও বিসমিল্লাহ পরিবহনের অংশীদার মোতালেব হোসেন, শ্রমিক আনিছুর রহমান আনিছ (৪০), ইউসুফ আলি, সাইফুল ইসলাম (৪২), শিবলু মিয়া (৪০), সাদ্দাম ও রঞ্জু মিয়া।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাইয়্যবা পরিবহনের মালিক তারা মিয়া তার বাস চালানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন চালক আনিছুর রহমান আনিছকে। তবে বাসের আয়ের সঠিক হিসাব না দেওয়ার অভিযোগে মালিক তাকে বাস চালাতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত কয়েকদিন ধরে চালক আনিছ মদ্যপ অবস্থায় মালিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে বিসমিল্লাহ পরিবহনের অংশীদার মোতালেব হোসেন ও তার সহযোগীরা মালিক তারা মিয়ার পক্ষ নিয়ে চালক আনিছকে মারধর করলে ঘটনাটি শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। পরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, পরিবহন খাতে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।

খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।