
ইংল্যান্ডের ১০০ বলের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর প্রথম নিলামেই সৃষ্টি হলো নজিরবিহীন বিতর্ক। পাকিস্তানি লেগ-স্পিনার আবরার আহমেদকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় আড়াই লাখ ডলার) দলে নিয়ে ভারতীয় কট্টরপন্থিদের তোপের মুখে পড়েছে সানরাইজার্স লিডস। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অফিশিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
গত বছর ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর মালিকানা বদলে যাওয়ার পর নর্দার্ন সুপারচার্জার্সের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালিকপক্ষ। সেই সূত্রে দলটির নাম বদলে রাখা হয় ‘সানরাইজার্স লিডস’। ২০০৯ সাল থেকে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় ধারণা করা হয়েছিল, ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এড়িয়ে চলবে। কিন্তু আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের ৩ নম্বর বোলার আবরারকে কিনে নিয়ে চমক দেয় সানরাইজার্স।
আবরারের দল পাওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই অনলাইনে চরম উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, গত বছরের মে মাসে দুই দেশের সশস্ত্র সংঘাতের পর আবরার ভারতকে নিয়ে বিদ্রূপ করেছিলেন। এই অজুহাতে সানরাইজার্স লিডসের সহ-মালিক কাব্য মারানকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার পাশাপাশি আগামী আইপিএলে ‘সানরাইজার্স হায়দরাবাদ’ বয়কটের ডাক দিয়েছে কট্টরপন্থিরা।
নিলামের আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছিল, খেলোয়াড় নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে। সানরাইজার্স সেই নীতি অনুসরণ করলেও ভারতে কট্টরপন্থিদের দৌরাত্ম্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে একই ধরনের চাপের মুখে পড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল বিসিসিআই। যার জেরে বাংলাদেশ দল ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এখন কলকাতার সেই পরিণতির পুনরাবৃত্তি সানরাইজার্স লিডসের ক্ষেত্রেও ঘটে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
আবরার আহমেদ ছাড়াও পাকিস্তানের রহস্যময় স্পিনার উসমান তারিককে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে দলে নিয়েছে বার্মিংহাম ফিনিক্স। তবে বাকিদের জন্য নিলামের টেবিল ছিল হতাশাজনক। পেসার হারিস রউফ ১ লাখ পাউন্ডের ভিত্তিমূল্যে কোনো বিড পাননি। টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুবও অবিক্রিত থেকে গেছেন। অন্যদিকে, নারী ক্রিকেটে ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবালও কোনো দল পাননি। আর নিলাম শুরুর আগেই নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি।
নিলাম শেষে সানরাইজার্স লিডসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জেরে তাদের প্রচারণার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা ক্রিকেটের স্পিরিটকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।