ভ্যান ছিনতাইয়ে বাধা, চাটমোহরে চাচাতো ভাইকে হত্যা: আটক ৩, গণধোলাই

: চাটমোহর উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 9 hours ago

26

পাবনার চাটমোহরে অটোভ্যান ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় চাচাতো ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে চাটমোহর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করে।
নিহত ভ্যানচালক ইমরান হোসেন (১৭) পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের চাচাতো ভাই একই গ্রামের মৃত হানিফ আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪২), কোরবান আলীর ছেলে সুমন (১৮) এবং পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুরা উপজেলার উত্তর মেন্দা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে এজাজুর (২০)-কে আটক করেছে।
নিহতের আত্মীয় সাদ্দাম হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় শুকুরভাঙ্গা এলাকা থেকে ইমরানের অটোভ্যানটি ভাড়া নেয় তার চাচাতো ভাই সুমন। এ সময় যাত্রী হিসেবে হেলালসহ আরও দুজন ভ্যানে ছিল। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তারা চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করে। পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় ভ্যান ও মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে প্রথমে ইমরানকে মারধর করা হয়। পরে সুমন, হেলাল ও এজাজুর গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর তারা লাশ ফেলে রেখে অটোভ্যান ও মোবাইল নিয়ে পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুরা উপজেলার উত্তর মেন্দা এলাকায় পালিয়ে যায়।
রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ইমরানকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পারেন, তিনজন যাত্রী নিয়ে ভাড়ায় গিয়েছিল সে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবার ও স্থানীয়রা ওই তিনজনকে খুঁজতে ভাঙ্গুরা উপজেলায় যান। সেখানে হেলালের এক বন্ধুর বাড়িতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখে স্থানীয়রা তাদের আটক করে চাটমোহরে নিয়ে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা শ্মশান এলাকায় ইমরানকে হত্যা করে লাশ ফেলে আসার কথা স্বীকার করে।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, নিহত ইমরানের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আটক ব্যক্তিরা অটোভ্যান ও মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ১৭। পরে আটক তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।