
চলনবিল অঞ্চলের প্রকৃতি আবারও নতুন রূপে ধরা দিয়েছে। পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের দরাপপুর ব্রিজ (স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ভাঙা ব্রিজ’) এলাকায় অচেনা অতিথি পাখির কলরব ও কুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
বর্তমানে চলনবিলের অধিকাংশ এলাকা পানিশূন্য। কোথাও কোথাও ফেটে যাওয়া মাটির চিহ্ন—দেখলে মনে হয় যেন এক খণ্ড মরুভূমি। অথচ এই শুষ্কতার মাঝেই প্রকৃতি তৈরি করেছে এক ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য। প্রতিদিন বিকেলের দিকে দরাপপুর ব্রিজের পূর্ব পাশে নিচু এলাকায় সামান্য পানি জমে থাকে, সঙ্গে রয়েছে কচুরিপানা ও জলজ উদ্ভিদ। আর সেই ছোট্ট জলাধারকেই আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাখিগুলো দেখতে কিছুটা বকের মতো হলেও পুরোপুরি চেনা যায় না—সম্ভবত বিভিন্ন প্রজাতির জলচর পরিযায়ী পাখি। তারা এখানে গোসল করে, পানি পান করে এবং পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। তাদের অবিরাম কিচিরমিচির শব্দে নিস্তব্ধ প্রান্তর যেন প্রাণ ফিরে পায়।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরই যখন চলনবিল শুকিয়ে যায়, তখন এ ধরনের নিম্নাঞ্চলে সামান্য পানি ও কচুরিপানা থেকে যায়। সেই কারণেই প্রতিবছর এই সময়টায় বিভিন্ন ধরনের অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এ যেন প্রকৃতির এক নিজস্ব নিয়ম।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “চারদিকে এখন পানি নেই, চলনবিল যেন মরুভূমি হয়ে গেছে। কিন্তু এই জায়গাটায় একটু পানি থাকায় প্রতি বছরই অতিথি পাখি আসে। এবারও এসেছে, দেখে খুব ভালো লাগে। পাখিগুলো আমাদের উপকারও করে—ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে, আবার তাদের বিষ্ঠা জমির উর্বরতা বাড়ায়।”
প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, এই দৃশ্য শুধু নান্দনিক নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাখির উপস্থিতি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে পাখির ভূমিকা অপরিসীম।
তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি এই জলাধারগুলো সংরক্ষণ করা না হয় বা পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায়, তাহলে ভবিষ্যতে অতিথি পাখির আগমন কমে যেতে পারে। তাই তারা প্রশাসনের কাছে এ ধরনের প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সরকারি ছুটি থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
চলনবিলের এই অপরূপ দৃশ্য যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি তার নিজস্ব ছন্দেই সৌন্দর্য বিলিয়ে দেয়। প্রয়োজন শুধু সেই সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করা এবং সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।