ঈদ সিনেমার লড়াইয়ে নীরব ‘প্রিন্স’

: বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: 4 hours ago

7

ঢাকাই সিনেমা এখন ঈদকেন্দ্রিক। ঈদ এলেই জমে ওঠে সিনেমার বাজার। এবারও এমনটাই ঘটেছে। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছে ৫টি সিনেমা। এগুলো হলো—‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। মুক্তির আগে থেকেই সিনেমাগুলো প্রচার শুরু করেছে। এ প্রচারের অংশ হিসেবে সিনেমা মুক্তির পর বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শিল্পী-কলাকুশলীরা। দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করছেন, প্রতিক্রিয়া জানছেন, সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, সেলফি তুলছেন, তৈরি করছেন উৎসবমুখর পরিবেশ। সব মিলিয়ে প্রেক্ষাগৃহগুলো যেন আবার ফিরে পেয়েছে সেই পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য। কিন্তু এ ব্যস্ত প্রচারের ভিড়ে একেবারেই ব্যতিক্রম অবস্থানে রয়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমা। নির্মাতা-প্রযোজক ছাড়া প্রচারে পাওয়া যায়নি এ সিনেমার কোনো তারকাশিল্পীকে। যেখানে অন্য সিনেমাগুলোর নায়ক-নায়িকা, পরিচালক এমনকি সহশিল্পীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন প্রচারে, সেখানে ‘প্রিন্স’-এর এই নীরবতা তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে ‘প্রিন্স’ সিনেমা রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিন ও কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্সে বেশ ভালো চললেও, স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি প্রদর্শনী নিয়ে দেখা দিয়েছিল জটিলতা। ঈদের দিন এই মাল্টিপ্লেক্সে ‘প্রিন্স’-এর কোনো শো চলেনি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও ছিল একই চিত্র। চতুর্থ দিন সিনেপ্লেক্সে দেখা গিয়েছে প্রিন্স । জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে পরিবেশক ডিজিটাল সিনেমা প্যাকেজ (ডিসিপি) সরবরাহ করতে না পারা এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণেই দর্শকদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এতদিন সিনেমাটি প্রদর্শন করতে পারেনি স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

শুরু থেকেই এমন জটিলতায় সিনেমাটি নিয়ে শাকিব-ভক্ত তথা দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বেশ নেতিবাচক। যারা সিনেমাটি দেখছেন তাদের মধ্যে অনেকেই সিনেমাটির নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর মধ্যে সিনেমার শিল্পীদের পাশাপাশি টিমের প্রচারবিমুখতাও সিনেমাটির সাফল্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের সিনেমার ক্ষেত্রে প্রচারণা এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাদের আগ্রহ তৈরি করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় থাকা—সবকিছুই নির্ভর করছে এ প্রচার কার্যক্রমের ওপর। ফলে অন্য সিনেমাগুলোর টিম যেখানে এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে, সেখানে ‘প্রিন্স’-এর অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতোই।

প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দর্শকদের আগ্রহ তৈরিতে শিল্পীদের উপস্থিতি বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবে দর্শক যখন পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে যান, তখন প্রিয় তারকাকে সামনে পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। এ জায়গায় ‘প্রিন্স’ পিছিয়ে পড়ছে কি না, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

তবে ‘প্রিন্স’ টিমের এ নীরবতার পেছনে কী কারণ, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। এটি কি পরিকল্পিত কোনো কৌশল, নাকি অন্য কোনো জটিলতা—তা নিয়েও রয়েছে জল্পনা। কেউ কেউ বলছেন, হয়তো তারা ভিন্ন পরিকল্পনা করছেন, আবার অনেকে এটিকে দুর্বল মার্কেটিং হিসেবেও দেখছেন।

নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘প্রিন্স’-এ গ্যাংস্টার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। তার সঙ্গে রয়েছেন তাসনিয়া ফারিণ, পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, বলিউড অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যসহ অনেকে। এটি নির্মাণ করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ।

এদিকে মুক্তি পাওয়া সিনেমার তারকাদের মধ্যে প্রেক্ষাগৃহে দেখা মিলছে আফরান নিশো, পূজা চেরি, সিয়াম আহমেদ, সাবিলা নূর, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, নাজিফা তুষি, আজমেরী হক বাঁধন থেকে শুরু করে অনেককেই। তারকা শিল্পীদের পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করছেন নির্মাতারাও। রায়হান রাফি, মেহেদী হাসান হৃদয়, তানিম নূর, রেদওয়ান রনি, আবু হায়াত মাহমুদকেও দেখা গেছে প্রচারে, সঙ্গে ছিলেন প্রযোজক।

মেয়েকে নিয়ে নিজের অভিনীত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। কিন্তু টিকিট পাননি। কিছুটা খারাপ লাগলেও, অন্যদিকে আনন্দিত এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে নিজের সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু টিকিট পাইনি। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা খারাপ লাগলেও, এটা ভেবে আনন্দ হচ্ছে যে, দর্শক সিনেমা দেখছে। হাউসফুল যাচ্ছে প্রতিটি শো। আমি বাইরে থেকে দর্শকের দারুণ প্রতিক্রিয়া পেয়ে আপ্লুত।’

এবার ঈদে ৩টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে চঞ্চল চৌধুরীর। ‘দম’, ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। সিনেমার প্রচারণায় ঈদের দিন থেকেই তিনিও ছুটছেন বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। এ অভিনেতা বলেন, ‘এবার ঈদে আমার তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। প্রতিদিন দর্শকের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য প্রেক্ষাগৃহে যাচ্ছি। ভালো লাগার বিষয় হলো অডিয়েন্সে (দর্শক) ভর্তি ছিল। দর্শকের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখলাম, সেটাই আমাদের ভালোলাগা।’

ঈদের আরেক সিনেমা ‘দম’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। সিনেমাটি নিয়ে তিনিও প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন। সঙ্গে রয়েছেন নায়িকা পূজা চেরিসহ নির্মাতা ও প্রযোজক। নিশো বলেন, ‘দর্শকের এক্সপ্রেশন ও রিঅ্যাকশন খুবই ভালো। আমরা খুবই আনন্দিত। আমি যত দিন বেঁচে আছি, প্রেক্ষাগৃহে অডিয়েন্সের রিঅ্যাকশন ফিজিক্যালি এক্সপেরিয়েন্স করতে চাই। এর থেকে সুন্দর আর কিছু হয় না।’

মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ঘুরেছেন তিনিও। সিয়াম বলেন, “আমরা যা ভেবে সিনেমাটি বানিয়েছি, দর্শক সেটার সঙ্গে কানেক্ট করতে পারছেন। বারবার বলছিলাম, দিস ইজ নট জাস্ট অ্যানাদার কমার্শিয়াল ফিল্ম। মুক্তির পর থেকে ‘রাক্ষস’ দর্শকের হয়ে গেছে।”