
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, ‘ভোটের কালি মোছার আগেই নবগঠিত বিএনপি সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে গড়িমসি শুরু করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।’
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এই তিন মৌলিক চেতনাকে সামনে রেখে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার পর দেশ স্বাধীন হলেও গত ৫৫ বছরে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণকে আজও সংগ্রাম করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘ সময়ে জনগণ বাকশাল, একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অধীনে নিষ্পেষিত হয়েছে। ফলে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৪৭ সালে মানচিত্র, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা এবং ২০২৪ সালে সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক জনগণ নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষণা, জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে সেই গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে দেয়। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নেতৃত্বের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক অনাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমূল্য এখনো আকাশছোঁয়া অবস্থায় রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। স্বাস্থ্য, পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা খাতে শৃঙ্খলার অভাবে মানুষের জীবন বারবার হুমকির মুখে পড়ছে। এই অবস্থার দ্রুত অবসান ঘটাতে হবে।’
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং শাখা প্রশিক্ষণ সম্পাদক সেলিম হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন, মহানগরী সহসভাপতি মল্লিক মোহাম্মদ কেতাব আলী, সহসাধারণ সম্পাদক কাজী আরিফুর রহমান, মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বায়তুলমাল সম্পাদক আবদুল হান্নান সরকার, হাফেজ শফিকুল ইসলাম, দেওয়ান আফসার মাহমুদ শোয়েব, মাওলানা ফরিদ আহমদ হেলালী প্রমুখ।