‘সোলেমান লেংটার’ মেলা, বসেছে মাদক-জুয়ার আসর

: চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: 8 hours ago

25

প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই শুরু হয়েছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী এলাকার বদরপুরে ঐতিহ্যবাহী ১০৭তম সোলেমান লেংটার মেলা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে মেলা শুরুর কথা থাকলেও, ভক্তদের আগাম উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে একদিন আগে সোমবার থেকেই মেলার কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলা করেছে জুয়াড়িরা। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো মেলার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপরও ব্যাপক পরিসরে মেলার আয়োজন শুরু হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এই মেলাকে কেন্দ্র করে গাঁজা বিক্রি, জুয়া, চাঁদাবাজি এবং অশ্লীলতার নানা অভিযোগ ছিল। এসব কারণ দেখিয়ে কয়েকটি সংগঠন মেলা বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলার বিস্তৃতি। ইতিমধ্যে বসেছে অসংখ্য দোকানপাট, তৈরি হয়েছে অস্থায়ী আস্তানা। মাজারসংলগ্ন এলাকায় ভক্তদের জন্য গড়ে উঠেছে খানকা ও আস্তানা, যেখানে গান-বাজনা ও বিভিন্ন আয়োজন চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থানের কিছুতে নারী-পুরুষ একসঙ্গে অশালীন নৃত্য ও অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাজার এলাকা নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়েই কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মাদক বিক্রি ও সেবন চলছে। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে অশ্লীল নৃত্যের আসর বসছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার মতো পরিবেশ নেই বলেও জানান অনেকে।

মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া বলেন, যেসব এলাকায় গাঁজার দোকান বসে, সেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। তাই সেগুলো বন্ধ করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চাই, ওরশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ না হোক।

নদীপথে আগত যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো মাজার এলাকার বাইরে ঘটে। তারপরও আমরা চাই, এসব অনিয়ম বন্ধ হোক এবং সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

মেলার অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, অনুমতির বিষয়টি ঠিক আছে, তবে এত বড় আয়োজন হওয়ায় অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ মসজিদের খতিব মাওলানা এনামুল হক বলেন, ইসলামে মাদক, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার কোনো স্থান নেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে এসব পরিহার করা জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল জনসমাগম হয়। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সিভিল পোশাকেও সদস্যরা কাজ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এখনও মেলার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদন পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, পীর ও সাধক হযরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ.) ওরফে লেংটা বাবা বাংলা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই প্রতি বছর তার মাজারকে কেন্দ্র করে চৈত্রের ১৭ তারিখে ওরশ ও মেলার আয়োজন করা হয়। ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত এ আয়োজনে প্রতিবছর লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।