
পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা খ্রিস্টান পল্লীতে এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামীকে আটক করেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফৈলজানা গ্রামের উপেন সরকারের মেয়ে মনীষা সরকার (২৫) প্রায় আট বছর আগে একই গ্রামের সুবল মণ্ডলের ছেলে সবুজ মণ্ডল (৩২)-কে ভালোবেসে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মনীষাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তার স্বামী।
নিহতের পরিবারের দাবি, বুধবার সকালে স্বামী সবুজ মণ্ডল, তার বাবা সুবল মণ্ডল ও মা মিলে মনীষাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। খবর পেয়ে চাটমোহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী সবুজ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাবনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তের পরিবার ভিন্ন দাবি করেছে। সবুজ মণ্ডলের বাবা সুবল মণ্ডল বলেন, মনীষা ঢাকায় কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বড় ছেলের বাসায় রেখে চিকিৎসা করানো হয়। গত ২৭ মার্চ সবুজ তাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে মনীষার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে সকাল ১১টার দিকে তিনি মারা যান। দায়িত্বরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মনীষা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গর্ভপাতজনিত ওষুধ সেবনের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।