
একদিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৫ ড্রোন-যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা একদিনে অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনাকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শনিবার (০৪ এপ্রিল) প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রদেশে সফলভাবে এসব প্রতিরোধ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এরমধ্যে খোমেইন ও জানজান অঞ্চলের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ইসফাহানে দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং বুশেহরে একটি হারমেস ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
একই দিনে মধ্য ইরানে একটি উন্নত যুদ্ধবিমান ধ্বংসের কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। ওই বিমানের পাইলট নিখোঁজ রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট II (ওয়ার্থগ) যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। পরে এটি পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।
ইরান জানায়, তাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আকাশসীমা আরও সুরক্ষিত করা হবে। দেশটি দাবি করছে, তাদের ওপর চালানো হামলার জবাব হিসেবেই এসব প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের হামলার জন্য ‘অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে তেহরান।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) দেওয়া বক্তব্যে আবোলফজল শেখারচি বলেন, ইরানের কৌশল কেবল পাল্টা হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আগ্রাসনকারী পক্ষকে এমনভাবে শাস্তি দেওয়া যাতে ভবিষ্যতে তারা আর এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে সাহস না পায়। আজ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে কাল আবার হামলা শুরু হোক এমন পরিস্থিতি আমরা চাই না। আমাদের লক্ষ্য স্থায়ীভাবে হুমকি দূর করা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে ইরান নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।