শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নারী ব্যাংকার হ ত্যা মামলার আসামী গ্রেপ্তারঃ লো/ম/হ/র্ষ/ক রহস্য উদঘাটন - চলনবিলের সময়

শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নারী ব্যাংকার হ ত্যা মামলার আসামী গ্রেপ্তারঃ লো/ম/হ/র্ষ/ক রহস্য উদঘাটন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: April 6, 2026

234

বগুড়ার শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নারী ব্যাংকার হ ত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন। এ হ ত্যা কা ণ্ডে জড়িত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিবগঞ্জ থানা পুলিশের লো/ম/হ/র্ষ সূত্রে জানা যায,
গত ৪ এপ্রিল উপজেলার ময়দানহাট্রা ইউনিয়নের কুশা গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ সুলতানা বেগম (৪৭)। সুলতানার স্বামী মারা যাওয়ার পর তার রোহান অরফে সিয়াম (৩০) নামের ১ ছেলেকে দেনাদফা করে প্রবাসে পাঠায়। ছেলে রোহান বিদেশে কর্মস্থান ভালো না পাওয়ায় দেশে ফেরত আসেন। দেশে এসে বেড়ে যায় দেনাদারের জ্বালা। দেশে এসে রোহান বেকার হওয়ায় চরমভাবে আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবার। ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে উপায়ন্তর না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে সুলতানা ও তার ছেলে রোহান। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য মা ও ছেলে বেছে নেয় অভিনব প্রতারনার ফাঁদ। তারা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মা ও ছেলে সাধারণত পুরুষ মানুষ যে বাড়িতে থাকে না সেই বাড়ি চিহ্নিত করে। বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে আত্মীয়তা সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অনেককে চড়া সুদের টাকা নেওয়ার অফার দেন। কোন কোন বাড়ীতে গিয়ে গভীর আত্মীয়তার সুযোগে ঘরে ওঠবস করে টাকা ও স্বর্ণ লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু কোথাও কোথাও আবার সুযোগ না পাওয়ায় তাদের এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল শিবগঞ্জ উপজেলা একই ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামের সাবেক নারী ব্যাংকার শাহনাজ (৭১) এর বাড়ীতে আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে সুলতানা ও তার ছেলে রোহান। এসময় তাদের চা নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করেন শাহানাজ। তাদের পানী দেন শাহানাজের ছেলের বৌ সৈয়দা জান্নাত আক্তার রিয়া। তিনি তাদের সাথে কথা বলে তার ছোট সন্তান কে নিয়ে নিজ ঘরে চলে যান। এসময় সুলতানা বেগম ও তার ছেলে রোহান রহমানকে নিয়ে নিজ ঘরে গল্প করতে থাকেন শাহানাজ। গল্পের এক পর্যায়ে সুলতানা বেগম ও তার ছেলে রোহান শাহানাজ বেগম এর নিকট টাকা ধার চান। শাহানাজ বেগম তাদের টাকা ধার দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় মা ও ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে পরস্পররের সহযোগীতায় শাহানাজ বেগম কে জিম্মি করে জোরপূর্বক টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় শাহানাজ বাধা প্রদান ও চিকিৎকারের চেষ্টা করলে ঘা ত কেরা তার মুখ বেঁধে ধা/রা/লো চা কু দ্বারা গলায় আ ঘা ত করেন। এতে পাশের ঘরে থাকা ছেলের বৌ সৈয়দা জিন্নাত আকতার রিয়া তার শাশুড়ির ঘর থেকে অস্বাভাবিক কণ্ঠস্বর আর বাঁচার আকুতি শুনে ছেলের বৌ দ্রুত শাশুড়ির ঘরে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখতে পান শ্বাশুড়ির ঘরের দরজা বাহির থেকে আটকানো। তখন ছেলের বৌ সৈয়দা জান্নাত আক্তার রিয়া জানালা দিয়ে পাশের বাড়ির ভাবি সহ অন্যান্য লোকজনকে ডাকাডাকি শুরু করেন। এদিকে ঘা ত ক মা ও ছেলে শাহানাজকে হ ত্যা নিশ্চিত করে লুটপাট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে ছেলের বৌ এর চিৎকারে পাশের বাড়ির লোকজন দ্রুত এসে ঘরের দরজা খুলে ভিতরে গিয়ে দেখেন- শাহানাজের র ক্তা ক্ত ম/র/দে/হ খাটের উপর পড়ে আছে। এঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রে প্তার করতে মাঠে নামে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম এর সার্বিক দিক নির্দেশনায়, সহকারী পুলিশ সুপার (শিবগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রবিউল ইসলাম এবং শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন এর তত্ত্বাবধায়নে মামনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) এরশাদ, এসআই (নিঃ) উৎপশন কুমার বোস, এসআই (নিঃ) মঞ্জয় কুমার কুন্ডু, এএসআই (নিঃ) মোঃ হাফিজুর রহমান, এএসআই (নিঃ) মোঃ এরশাদুর রহমান, সঙ্গীয় ফোর্স সহ একটি চৌকস টিম নিঁখুত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ময়দানহাট্রা কুশা গ্রামে অভিযান চালিয়ে সুলতানা বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। এসময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খু নী সুলতানা পুলিশ কে এ চাঞ্চল্যকর হ ত্যা কা ণ্ডের কথা শিকার করেন। এরপর পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন। এসময় অন্য আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়।