ঘুষের টাকার জন্য অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 5 hours ago

28

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাহিদামতো ঘুষ না দেওয়ায় বাদীকে তুলে নিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়সহ অন্তঃসত্ত্বা নারীর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মাতামুহুরি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বিএমচর বেতুয়াবাজারস্থ মাতামুহুরি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— মোহাম্মদ রফিক (৪৫), তার স্ত্রী পিংকি আকতার (৩৫), রফিকের ছোট ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শিপা জান্নাত (৩০) ও তার ছোটবোন শারমিন আক্তার (২৮)।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক (৪৫) এই বিষয়ে প্রতিকার ও বিচার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকের সঙ্গে স্থানীয় আবু তাহের গংদের বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা বিচারাধীন। গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিক পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। তখন এসআই ফারুক হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং রফিকের কাছ থেকে খরচের কথা বলে ৩ হাজার টাকা নেন।​রফিকের দাবি, বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার নাম করে এসআই ফারুক পরবর্তীতে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। রফিক টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন। গত ৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এ সময় এসআই ফারুক নিজেই রফিকের ছোট ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। এছাড়াও রফিকের স্ত্রী ও বোনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

রফিক আরও জানান, ঘটনার পর তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে বেলা ১১টার দিকে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩০০ টাকার তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে তাকে ছেড়ে দেয়।​অন্তঃসত্ত্বা শিপা জন্নাত বলেন, আমার ভাসুর রফিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এসআই ফারুক আমার তলপেটে সজোরে লাথি দিলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এদিকে অভিযুক্ত এসআই ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মোহাম্মদ রফিক আদালতে মামলা করলেও, বিরোধের ওই জায়গায় প্রতিপক্ষকে কাজ না করা সম্পর্কে আদালতের কোনো আদেশ দেখাতে পারেননি। তাই অপর পক্ষকে বাড়ি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে বলি। ঝামেলা এড়াতে রফিককে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। রাগের মাথায় লাঠি দিয়ে একটি বাড়ি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।