
গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার না করে সরকার ভিন্ন পথে আগালে তা গণরায়ের পরিপন্থি হবে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের ত্রি-মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
সভায় নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সরকার গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তারা বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’কে ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ ও ‘জাতীয় প্রতারণা’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, এর মাধ্যমে বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভূলুণ্ঠিত করেছে। অথচ ওই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৫টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপির নামও রয়েছে। পরবর্তীতে তারা ভিন্নমত যুক্ত করে সংসদীয় পদ্ধতিতে সংশোধনের কথা বলছে, যা গণভোটে প্রদত্ত জনরায়ের বিরোধী বলেও উল্লেখ করা হয়।
নেতারা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের সিদ্ধান্তসমূহ নিয়ে নির্বাচিত সংসদে আলোচনা ও পর্যালোচনা হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সভায় দেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাম প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। একই সঙ্গে মশার উৎপাত বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয়।
শিক্ষাখাত প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, সপ্তাহে তিনদিন অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত অপরিণামদর্শী। এতে শিক্ষার্থীরা আর্থিক ও নৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ও আলোকসজ্জা সীমিত বা নিষিদ্ধ করা এবং পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সভায় দলের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, আলহাজ সদরুজ্জামান খান, ডা. এ এ তাওসিফসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।