
বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ব্যাট-বল হাতে সারা বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করা সাকিব আল হাসান এবার পদার্পণ করতে চলেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আঙিনায়। যেখানে নেই রান, উইকেট কিংবা স্কোরবোর্ডের চিরচেনা হিসাব-নিকাশ; রয়েছে খবর, বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ আর বৈশ্বিক কনটেন্টের এক সুবিস্তৃত দুনিয়া।
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। তার এই নবযাত্রার নাম ‘বিয়ন্ড বাংলা’। এবার ‘প্রকাশক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন এই তারকা অলরাউন্ডার। সাকিবের উদ্যোগেই যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘বিয়ন্ড বাংলা’ (Beyond Bangla)।
যেখানে কেবল দেশীয় গণ্ডি নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের বিচিত্র বিষয়াবলি, সমসাময়িক ঘটনা ও হালনাগাদ ট্রেন্ড তুলে ধরার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্যপ্রবাহের এই বিস্তৃত মহাসড়কে ভিন্নধর্মী ও রুচিশীল কনটেন্টের মাধ্যমে নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করাই সাকিবের মূল লক্ষ্য। তবে এই উদ্যোগে সাকিব একা নন। তার সারথি হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি ও সাংবাদিক জুলফিকার রাসেল। এই প্ল্যাটফর্মটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সংগীতজগতের পাশাপাশি সাংবাদিকতাতেও রয়েছে তার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা। সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এমন ভাবনা কীভাবে দেখলেন সাকিব? জবাবে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, খবরগুলো নানাভাবেই উপস্থাপিত হয়। অনেক সময় সঠিক খবরটা পৌঁছায় না। সঠিক নিউজটা যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই জায়গা থেকে যদি কিছু করা যায়, সেরকমই একটা চিন্তা বলতে পারেন। মানে খবরের ভেতরের খবরটা যেন মানুষ জানতে পারে।’
সাকিব ও জুলফিকার রাসেলের সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক এক আড্ডা থেকেই এই যাত্রার সূচনা। এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘অনেকদিন ধরে নয়, অল্প কিছুদিন ধরে এরকম চিন্তা আসলে চলছে। আলাপ-আলোচনা করতে গিয়েই এমন পরিকল্পনা মাথায় এসেছে।’
একই অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি শোনা যায় জুলফিকার রাসেলের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আড্ডাতেই এই নিয়ে একদিন আলোচনা হয়। এমন একটা উদ্যোগে সাকিবকে অনেক বেশি ইতিবাচক মনে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যাওয়ায় আমাদের পার্টনারশিপ হতে যাচ্ছে। আমরা দুইজন ছাড়াও আমাদের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন।’
খেলাধুলার জন্যও থাকবে বিশেষ আয়োজন। সাকিব আল হাসান বলেন, ‘অবশ্যই স্পোর্টস থাকবে। খেলাধুলার খুঁটিনাটি সবকিছুই আমাদের প্ল্যাটফর্মে থাকবে।’
ইতোমধ্যে প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইটের কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত হয়ে এসেছে। তবে এখনই সেটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হবে এর পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বা ‘টেস্ট রান’। ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষাতেই কনটেন্ট প্রকাশের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে কেবল বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের রুচি ও চাহিদার কথা বিবেচনা করেই প্রথম পা ফেলতে চান উদ্যোক্তারা। এর মূল অফিস যুক্তরাষ্ট্রে, বাংলাদেশ হবে ব্যুরো অফিস।