
সুরের আকাশ আজ মেঘাচ্ছন্ন। লতা মঙ্গেশকরের পর আরও এক নক্ষত্রপতনে শোকে পাথর বিনোদন জগত। ৯২ বছর বয়সে থামল সেই জাদুকরী কণ্ঠ, যা দশকের পর দশক ধরে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্পন্দন জাগিয়েছে। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শুধু ভারতীয় সঙ্গীত নয়, এক গভীর বিষণ্ণতার ছায়া নেমে এসেছে টালিউডেও। এই শোকের মুহূর্তে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না টালিউড ‘কুইন’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সূত্র: টিভি নাইন বাংলা
আশা ভোঁসলের প্রয়াণকে কেবল একজন শিল্পীর চলে যাওয়া হিসেবে দেখছেন না ঋতুপর্ণা।
অভিনেত্রীর কথায়, আশা জি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনের সুর ও সঙ্গীতের দেবী। আজ সেই সুরের মহাকাশ থেকে আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়ল।
৯২ বছর বয়স পর্যন্ত যেভাবে তিনি সুরের জাদুতে সারা বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছিলেন, তাকে বিরল ইতিহাস বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র জগত।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর কাছে এই ক্ষতি এক ব্যক্তিগত শূন্যতার মতো। পর্দার আড়ালে থেকে যে মানুষটি ঋতুপর্ণার চরিত্রগুলোকে গানের ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত করে তুলেছেন, তার প্রয়াণে যেন এক সোনালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। ঋতুপর্ণার কেরিয়ারের একাধিক সুপারহিট ছবিতে আশা ভোঁসলের কণ্ঠ এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছিল।
এ বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন ‘আমি খুব প্রিভিলেজড। আমার অনেকগুলো প্লে-ব্যাক আশা জি করেছিলেন এবং বেশ কিছু গান আমি লিপ দিতে পেরেছিলাম এই মহান শিল্পীর গাওয়া গানে। আর সেটা ছিল আমার কাছে একটা খুব বড় পাওনা।
ঋতুপর্ণা মনে করেন, শিল্পীরা কখনও জগত ছেড়ে বিদায় নেন না; তাঁরা বেঁচে থাকেন মানুষের মজ্জায় এবং নিবিড় ভালোবাসায়। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা গ্রাস করলেও সুরের লয় কখনও কাটেনি আশা জির জীবন থেকে। তাঁর সেই অদম্য জীবনীশক্তিকেই কুর্নিশ জানিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘উনি আমাদের যা দিয়ে গিয়েছেন, তা আগামী বহু প্রজন্মকে সঙ্গীতের রসদ জোগাবে। উনি যেভাবে এন্টারটেইন করে গিয়েছেন, শি ওয়াজ আ রিয়েল এন্টারটেইনার। এবং এন্টারটেইনমেন্টের লাস্ট ওয়ার্ড হচ্ছে আশা ভোঁসলে।