সাতক্ষীরায় মডেল মসজিদের সিঁড়িতে পহেলা বৈশাখ উদযাপন: ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ক্ষোভ

: মেহেদী হাসান (স্টাফ রিপোর্টার) সাতক্ষীরা
প্রকাশ: 15 hours ago

89

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে  বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ধর্মীয় উপাসনালয়কে সাংস্কৃতিক উৎসবের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় অনেকেই একে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ হিসেবে দেখছেন।

ঘটনার বিবরণ

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কলারোয়া মডেল মসজিদের সামনের সিঁড়ি এবং সংলগ্ন চত্বরে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটেছে। উৎসবের অংশ হিসেবে সেখানে মেলা সদৃশ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রঙিন বেলুন, বাঁশি এবং শিশুদের খেলনা নিয়ে মসজিদের সিঁড়িতে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে অনেককে। মূলত নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করতে আসা মানুষের ভিড়ে মসজিদের স্বাভাবিক গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের অভিযোগ, মসজিদ একটি পবিত্র স্থান যেখানে মানুষ ইবাদত-বন্দেগির জন্য আসেন। সেখানে মেলার মতো পরিবেশ তৈরি হওয়া এবং উচ্চশব্দে বাঁশি বাজানো বা উৎসব করা অনুচিত। স্থানীয় এক মুসল্লি বলেন:
> মডেল মসজিদগুলো করা হয়েছে দ্বীনি শিক্ষা ও প্রচারের জন্য। কিন্তু এখানে যেভাবে উৎসবের আমেজ তৈরি করা হয়েছে, তাতে মসজিদের আদব রক্ষা হয়নি। এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

সাধারণত মডেল মসজিদগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকে স্থানীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মসজিদের সিঁড়ি ও প্রাঙ্গণে কেন এমন জনসমাগম হতে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছেন, উৎসব পালনের জন্য নির্দিষ্ট মাঠ বা জায়গা থাকা সত্ত্বেও মসজিদের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন জমায়েত এড়িয়ে চলা উচিত ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার সমালোচনা করে অনেকেই লিখেছেন যে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এ ধরণের স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কলারোয়ার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ।