‘গুপ্ত’ স্লোগান ঘিরে চট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

: চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 13 hours ago

31

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের দেয়ালে লেখা ‘গুপ্ত’ রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা দুপুরের দিকে সহিংসায় রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

কলেজ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে পূর্বে আঁকা জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতির নিচে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। যা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে।

সংঘর্ষের পর কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স কোর্সের চলমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়।

সংঘর্ষে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হন। তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে তার মাথায় ৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিক রনি কালবেলাকে বলেন, ‘কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির উভয় সংগঠনই উন্মুক্তভাবে রাজনীতি করে এবং এখানে ভেদাভেদ নেই। তবে দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রশিবিরের সভাপতির অশালীন মন্তব্যের কারণে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। পরে কিছু বহিরাগত এসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।’

তিনি আরও বলেন,শিবিরের হামলায় ছাত্রদলের ইসমাইল হোসেন ,নাজিম উদ্দীন ও মিসকাতসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ বলেন, শিবির নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শিক লড়াইয়ের পরিবর্তে ছাত্রদল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিকাল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

ঘটনার সময় কলেজের শিক্ষকরা প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।

সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন, পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে।’

সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।