
জাপানের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটি ১,৪০০ জন দমকলকর্মী এবং ১০০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স সদস্য মোতায়েন করেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা পঞ্চম দিনের মতো আগুন জ্বলতে থাকায় এটি একটি সুন্দর উপকূলীয় শহরের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত আগুনে পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ১ হাজার ৩৭৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এ পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই আগুন প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত ওৎসুচি শহরের আবাসিক এলাকাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ২০১১ সালের মার্চ মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে শহরটি তার প্রায় এক-দশমাংশ জনসংখ্যা হারিয়েছিল।
এলাকাটি থেকে বর্তমানে ১ হাজার ৫৪১টি পরিবার বা মোট ৩ হাজার ২৩৩ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংখ্যা ওৎসুচির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
ওৎসুচির মেয়র কোজো হিরানো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশ থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাস আগুনকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়োশিনোরি কোমাতসু আগুনে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দূরে হেলিকপ্টার থেকে পানি ফেলার দৃশ্য দেখতে দেখতে তিনি বলেন, “আগুন সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। সুনামির পরেও কিছু না কিছু অবশিষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু আগুন কিছুই রাখে না।”
জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাত্র একজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার ওই অঞ্চলে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, তবে মঙ্গলবার হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
রয়টার্স জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।