
তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টার। প্যাথলজিতে যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই টেকনিশিয়ান, নষ্ট হয়ে পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স। ফলে ৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর এই বিদ্যাপীঠে চিকিৎসা সেবা এখন নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪৯ জন শিক্ষক, প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ ৪ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। যেখানে ২৪ ঘণ্টা তিন শিফটে সেবা চালু থাকার কথা, সেখানে প্রয়োজনীয় জনবলের অর্ধেকেরও কম থাকায় মাত্র ১টি শিফট (৮ ঘণ্টা) চালানোই দুরূহ হয়ে পড়েছে।
মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও ল্যাব টেকনিশিয়ান ও এক্স-রে টেকনিশিয়ানের পদগুলো শূন্য থাকায় কোনো পরীক্ষাই করা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ রক্ত পরীক্ষার জন্যও শিক্ষার্থীদের ১৫ কিলোমিটার দূরে যশোর শহরে যেতে হয়। যাতায়াতের জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন থেকে নষ্ট।
বর্তমানে মাত্র ৫টি বেড দিয়ে চলছে সেবা। একটি প্রকল্পের আওতায় ২০টি বেড বরাদ্দ পাওয়া গেলেও স্থান সংকটের কারণে সেগুলো স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার রাতে হলের খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে জনবল সংকটের কারণে তাদের ২০ কিলোমিটার দূরে শহরের হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এছাড়া নারী চিকিৎসক স্বল্পতা ও তাঁদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন অনেক নারী শিক্ষার্থী।
মেডিকেল সূত্র জানায়, জনবল সংকটে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে পারেন না তারা। তারপরও ডিউটি ভাগ করে প্রতি বৃহস্পতিবার এবং প্রতিদিন ইভেনিং শিফট রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া ওষুধের সংকট রয়েছে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার রাফিদ বলেন, ২৪ ঘণ্টা মেডিকেল সেবা চালু থাকার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার, শুক্রবারসহ যেকোনো ছুটির দিন বন্ধ থাকে মেডিকেল সেন্টার। রাতে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাকে শহরে যেতে হয়। আবার অনেক সময় ডাক্তাররা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে না থেকে শহরের বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখেন। নাপা ছাড়া মেডিকেলে কখনো প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না।
ইএসটি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার মিথি সার্বক্ষণিক নারী চিকিৎসক নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, জরুরি চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।
চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার জানান, ‘এক শিফটের জন্য যে লোকবল প্রয়োজন, আমাদের কাছে আছে তার অর্ধেক। ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে হলে বর্তমানের দ্বিগুণ জনবল প্রয়োজন।’
যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি অবগত। শূন্য পদগুলো পূরণের মাধ্যমে সেন্টারটিকে পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর করতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্যাম্পাসে সর্বোত্তম সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের ডাইনিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয় শতাধিক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে জনবল সংকটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শহরের আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।