দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 23 hours ago

37

দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে প্রত্যেককে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শুধু শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক বা নারীরাই নয়, বরং দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষ তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ কারণেই দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। স্বৈরাচারী শাসনামলে লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, শিল্প-কলকারখানা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ গঠনের এখনই উপযুক্ত সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র, নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো চালুর জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব কারখানা চালু করে কর্মহীন শ্রমিকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কারখানা চালু করলেই হবে না, দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শ্রমিক, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলেই দেশ ভালো থাকবে।

যানজট নিরসন ও জনসাধারণের চলাচল সহজ করতে সড়ক থেকে হকারদের সরানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হবে।

রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে কাজ শুরু হয়েছে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও নারীদের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিক ও কৃষক পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষিখাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

গ্রামীণ পানিসমস্যা সমাধানে ‘খাল খনন’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উভয়ই উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে এগিয়েছে, তখনই শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে, অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় ‘এমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে কিছু মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবশেষে তিনি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সেভাবেই সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। দেশ গড়ার কাজে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের স্লোগান, ‘করব কাজ, সবার আগে’। আসুন, আমরা শপথ নিই, দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করি।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ-জীবন বাংলাদেশ, আমার মরণ বাংলাদেশ।’ এই দেশই আমাদের চূড়ান্ত ঠিকানা।