আ.লীগেই থাকতে চাই, পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই আমার : সাকিব

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 3 hours ago

33

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতেই সক্রিয় থাকতে চান সাকিব আল হাসান। আর সেই রাজনীতিতে তার একমাত্র পছন্দ আওয়ামী লীগ— এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এ অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার দল পরিবর্তন করার শখ নেই, ইচ্ছা নেই। আমি যদি একটা ছোট দলেও কোনো দিন নাম লিখিয়েছি তো ওই দলের প্রতি সবসময় অনুগত ছিলাম। পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।’

রোববার (০৩ মে) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এসব কথা বলেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

সাকিব আল হাসান বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা কিংবা নিষিদ্ধ থাকলেও, এই অবস্থা চিরস্থায়ী হবে না বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।

দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। জোর করে কিছুদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও তাতে দেশের বা রাজনীতির কোনো উন্নতি হয় না।

রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ‘যদি আমরা আগে ভুল করে থাকি এবং এখন সেটির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে। যে দল এটি শেষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারাই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।’

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিবের সংসদীয় মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে থাকলেও মাগুরার মানুষকে নিয়ে এখনো স্বপ্ন দেখেন সাকিব।

এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে। আমি তো এবারের (অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সম্ভাব্য) নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম ভোটে দাঁড়িয়েই নিজের জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দেব। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি

৫ আগস্টের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা সাকিবের নামে বর্তমানে হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মামলা রয়েছে। এসব মামলাকে আইনিভাবে মোকাবিলা করতে চাইলেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে ‘নিরাপত্তাহীনতা’ ও ‘হয়রানি’কে দেখছেন তিনি।

সাকিব বলেন, পুরোপুরি আশা আছে যে আমি দ্রুতই দেশে ফিরব। আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশেষ কোনো প্রটোকল চাচ্ছি না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।