ডোবার ময়লা পানিতে ভাসছে সরকারি ওষুধ

: জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: 3 hours ago

6

জামালপুরের ইসলামপুরে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের লোকচক্ষুর আড়ালে এক ডোবার পানিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ভাসতে দেখা মিলছে। ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ক্লিনিকের পাশের ডোবায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ওষুধ উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতায় বরাদ্দ করা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুই বছর ধরে ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কয়েক মাস আগে সীমিত আকারে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে কী কারণে ক্লিনিকের সরকারি ওষুধ ডোবার পানিতে ফেলা হয়েছে, সেটা তারা জানেন না।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীকে। তারা হলেন চরমুন্নিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. মিস্টার, স্বাস্থ্য সহকারী শারমীন জান্নাত এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী মোছা. রনি বেগম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধনতলা এলাকায় কুলকান্দী-বেলগাছা সড়কের পাশে ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিক। ক্লিনিকের পশ্চিম পাশে একটি ডোবায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। ওষুধের গায়ে লেখা রয়েছে ‘সরকারি সরবরাহ’।

ধনতলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর ধরে হাসপাতালটি তালা মারা বা বন্ধ ছিল। মাঝে মধ্যে হঠাৎ করে ডাক্তার আসলে হাসপাতাল খোলার পরও ওষুধ চাইলে বলা হয়, নাই। অথচ ডোবার পানিতে ওষুধ ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

ক্লিনিকের পাশের বাড়ির বাসিন্দা সাজেদুল বলেন, এই ওষুধ গুলো আমরা গরীব দুঃখী মানুষের পাওয়ার কথা, আমাদের মধ্যে সঠিক বিতরণ না করে রোগী দের কে না দিয়ে পাগারে চুরি করে ফেলে দেয়। এই ‘সরকারি ওষুধ কারা ডোবায় ফেলে দিয়েছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

ক্লিনিকের জমিদাতা মজিবুর রহমান বলেন, আমি বিনা পয়সায় খানিক জমি দিয়েছি এই এলাকার অসহায় গরীব মানুষ চিকিৎসা পাওয়ার জন্য। দুই বছর ধরে দেখি হাসপাতালটা বন্ধ করে রাখে। দুপুর দিকে শুনতে পাই বেদেনার বাড়ির পাশের পাগারের মধ্যে ওষুধ ভাসছে। এই কাম কে করেছে তার উচিত বিচার চাই।

এ বিষয়ে ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চরমুন্নিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. মিস্টার বলেন, ‘আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ক্লিনিকটিতে বেশ কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সরকারি ওষুধ কারা ডোবায় ফেলে দিয়েছে, সেটা আমার জানা নেই।

ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিবার কল্যাণ সহকারী মোছা. রনি বেগম এবং স্বাস্থ্য সহকারী শারমীন জান্নাত বলেন, ‘আমরা নিয়মমাফিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি। ডোবায় ফেলে দেওয়া ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ দেখা গেছে। তবে ওই ওষুধগুলো এই ক্লিনিকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।’

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এ এম আবু তাহের বলেন, ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের সরকারি ওষুধ প্রসঙ্গে একটা সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নজরে আসে। জানা মতে আমি উক্ত কমিউনিটি ক্লিনিকটা পরিদর্শন করি। এমনকি ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়। উক্ত কমিটি পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে কমিটির সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।