
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ আসনে সংখ্যালঘু ভোট এত দিন পর্যন্ত ছিল ‘নির্ণায়ক’। কিন্তু এবারের ভোটের ফলাফলে সেই সমীকরণে আমূল বদল ঘটে গেছে। ফলস্বরূপ, ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি, এমন ১৪৬টি (ফলতায় ভোট এখনো হয়নি) আসনের মধ্যে তৃণমূল এ বার পেয়েছে ৭৩টি আসন। ২০২১ সালের ভোটে সেই সংখ্যাটা ছিল ১২৯। ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে ৬৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, যেখানে গত ভোটে তারা জিতেছিল মাত্র ১৬টিতে। আবার ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৪০ শতাংশের বেশি, এমন ১৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এমন মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল তারা।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ২৭ শতাংশ মুসলিম। ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টি বিধানসভা রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু অংশের ভোট ২৫ শতাংশ বা তার বেশি। এর মধ্যে আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, ওই আসনগুলিতে প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সংখ্যালঘুরা। ৪০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে, এমন আসনের সংখ্যা রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদে। সেখানকার ২২টি বিধানসভা আসনেই সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি বিধানসভা আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। উত্তর ২৪ পরগনায় ৯টি এবং উত্তর দিনাজপুরে ৭টি আসনেও সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশের বেশি। মালদহের ৮টি আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। নদিয়ায় তেমন আসনের সংখ্যা ৬টি। কলকাতায় বন্দর এবং চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রেও মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি।
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, বড়ঞাঁর মতো যে সব কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি, সেখানেও এ বার জিতেছে বিজেপি। মানিকচক, করণদিঘি, হেমতাবাদের মতো মুসলিম অধ্যুষিত আসনেও একই ছবি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু আসনে দেখা গিয়েছে, দু’টি বিষয় সমান্তরাল ভাবে ঘটেছে। এক, তৃণমূলের বাক্সে থাকা সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি। দুই, উল্টোদিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে হিন্দু ভোট। পরিসংখ্যান নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, হিন্দু ভোটের যে মেরুকরণ এ বার বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে, তা অতীতে কখনও হয়নি। এমনকি, উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে বিজেপি-শাসিত যে সব রাজ্য রয়েছে, সেখানকার তুলনায়ও পশ্চিমবঙ্গে এ বারের নির্বাচনে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে অনেক বেশি। অর্থাৎ, এক দিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন জেলায় মুসলিম ভোট বিভাজিত হয়েছে। সমান্তরালভাবে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে হিন্দু তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট।