
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ থাকলেও, তিস্তা থেকে শুরু করে অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্যতা পায়নি ঢাকা।
সোমবার (০৪ মে) পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হয়। রাজ্যটিতে বিজেপির জয়ের খবরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, পশ্চিমবঙ্গে যে-ই ক্ষমতায় থাকুক, সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না। তবে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে সমাধান চায় ঢাকা।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে ৫৪টি নদীর হিস্যা নিয়েই আমাদের আলাপ–আলোচনা। সবকিছু নিয়েই আমরা কাজ করছি। এই অল্প সময়ে সব কাজ শেষ করতে পারব এ সুযোগ নেই।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ন্যায্য হিস্যার পাশাপাশি অভিন্ন নদীগুলো থেকে যেন দূষিত পানি না আসে সে বিষয়েও চুক্তি হওয়া উচিত।
এদিকে সোমবার (৪ মে) নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রায় তিন দশক আগের এই চুক্তি কার্যকরভাবে কাজ করেছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে তা নবায়ন করা হবে। দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং পানি খাতের সহযোগিতা ভারতের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে বিক্রম মিশ্রি বলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে আটকে আছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে চুক্তিতে গতি আসবে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
যৌথ নদী কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ হিমালয় থেকে উৎসারিত ৩টি বৃহৎ নদী-গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার পলল দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে। এটি পৃথিবীর একটি অন্যতম বৃহৎ বদ্বীপ। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০৫টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
এর মধ্যে ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী, যার মধ্যে ৫৪টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন এবং ৩টি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অভিন্ন।