বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটির কার্যক্রম শুরু

: সোহেল আহমেদ বগুড়া সদর প্রতিনিধি
প্রকাশ: 2 hours ago

37

উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও এভিয়েশন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, আধুনিক বিমানঘাঁটি, পাইলট ট্রেনিং সেন্টার ও কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (০৭ মে ২০২৬) সকালে ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বগুড়া বিমানবন্দরে পৌঁছান।

প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পাশাপাশি ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সহজেই অবতরণ করতে পারে। একইসঙ্গে আধুনিক কার্গো ফ্যাসিলিটি স্থাপন করা হবে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শনকালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, “উত্তরাঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন অধ্যায়।” তিনি আরও জানান, বিমানঘাঁটির প্রাথমিক অনুমোদন ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এখানে আন্তর্জাতিক মানের ফ্লাইং একাডেমি, পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও এভিয়েশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বগুড়া পরিদর্শনে এসেছি। উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করা হবে। এই বৃহৎ পরিকল্পনার যাত্রা বগুড়া দিয়েই শুরু হচ্ছে।”
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, “বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কার্গো সুবিধা, প্রশিক্ষণ একাডেমি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়ন, পর্যটন, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।