দুই বিষয়ে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থী

: ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: 2 hours ago

8

ফেনীর সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি পাইলট হাইস্কুল এসএসসি (ভোকেশনাল) কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক ও হল সুপারের চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও এক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করায় দুটি বিষয়ের পরীক্ষা ভুল প্রশ্নে সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাহিদা আক্তার রিমা সোনাগাজী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার পরীক্ষার্থী। ব্যক্তিগত কারণে ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় সে এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি পাইলট হাই স্কুল কেন্দ্রে অংশ নেয়। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ এবং ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ পরীক্ষায় তাকে অনিয়মিতর পরিবর্তে নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।

সোনাগাজী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, নাহিদা আক্তার রিমা ২০২৫ সালের পরীক্ষার্থী ছিল। সে বছর পরীক্ষা না দেওয়ায় এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নেয়। নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে বিষয় কোড ভিন্ন থাকে। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের বিষয় কোড ছিল ১৯২৪, আর অনিয়মিতদের ৫১৯২৪। একইভাবে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে নিয়মিতদের বিষয় কোড ছিল ১২২১ এবং অনিয়মিতদের ৫১২২১।

তিনি বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি, ওই দুই পরীক্ষায় তাকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থী বিষয়টি বুঝতে পারেনি এবং ভুল প্রশ্নেই পরীক্ষা দিয়েছে।

শিক্ষার্থী নাহিদা আক্তার রিমা জানায়, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে আমি ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছি। বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি। ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষার দিন হল পর্যবেক্ষক আমার উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়ে ভুলটি ধরতে পারেন। পরে আমি বিষয়টি হল সুপারকে জানালে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, কোন হলে কতজন নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছে, সে তথ্য সংরক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব হল সুপারের। সেই অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা।

তারা আরও বলেন, হল সুপার ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী একই প্রতিষ্ঠানের হওয়া সত্ত্বেও এমন ভুল হওয়া দুঃখজনক। বিষয়টি দায়িত্বে অবহেলারই প্রমাণ এবং এতে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল সুপার মো. কাইয়ুম ফোনে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করিয়েন।

কেন্দ্র সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি হল সুপার মো. কাইয়ুমের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্রে কোনো ভুল হয়নি।

অন্যদিকে সোনাগাজী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমি শুনেছি আমার একজন অনিয়মিত শিক্ষার্থীকে দুই দিন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী বুঝতে না পেরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এ দায় কেন্দ্র সচিব ও হল সুপার এড়াতে পারেন না। নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী অনুযায়ী আলাদা প্রশ্ন দেওয়া হল সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের কাজ। বিষয়টি জানার পর ওই কেন্দ্রের হল সুপার ও আমাদের স্কুলের শিক্ষক মো. কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ভুল প্রশ্ন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি কেন্দ্র সচিবকে এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলেছি।