আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমিয়ে কার্যকর করারোপের দাবি

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 2 hours ago

6

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা হ্রাস, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের কার্যকরভাবে করারোপের দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে কমবে তামাকের ব্যবহার ও অকাল মৃত্যু এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যে করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম- এই দুটি স্তরকে একত্রিত করে নতুন তিন স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০ টাকা, ১৫০ টাকা, ও ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ এবং একইসঙ্গে বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে চার টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়।

পাশাপাশি ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০% সম্পূরক শুল্ক আরোপ, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৮ টাকা, প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০% সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানানো হয়। একইসাথে সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, সিগারেট করকাঠামোয় প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ৫ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪০৮ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৩৫ তরুণ জনগোষ্ঠীর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। তামাক ব্যবহারের হার প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পাবে। এবং তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

পাশাপাশি, সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা বিদ্যমান চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী ধূমপানে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত হবে। কারণ নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তা যে কোনো একটি স্তরের সিগারেট বেছে নেয়ার সুযোগ পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও অর্থনিতি পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বিগত ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তামাকপণ্য ও নিত্যপণ্যের দামের তারতম্য তুলনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে চিনির দাম বেড়েছে ৮৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আলুর দাম বেড়েছে ৮৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, আটার দাম বেড়েছে ৭৫ দশমিক ০৯ শতাংশ, অন্যদিকে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোক্তা মধ্যম স্তরের সিগারেটের, সেটির দাম বেড়েছে সবচেয়ে কম, অর্থাৎ নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেট আরও সস্তা হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল জানান, সরকার প্রস্তাবিত তামাক কর বাস্তবায়ন করলে এর মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব আয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে সরকার একদিকে, তামাকজনিত রোগের বোঝা কমাতে এবং অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসুদউল হক জানান, বাংলাদেশে তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধ পরিকর, তেমনি তামাক নিয়ন্ত্রণেও তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে সে লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম, আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা এবং ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান টিপু।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com