
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে টালিউড অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর মধ্যকার আইনি বিরোধ এবার নতুন মোড় নিয়েছে। এবার এই মামলায় মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রী।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন বনগাঁ আদালতে এই চার্জশিট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না অভিনেত্রী, তার পরিবর্তে হাজির ছিলেন তার আইনজীবী।
বিষয়টি নিয়ে তনয় শাস্ত্রী বলেন, ‘এক দিনও মিমি চক্রবর্তী আদালতে আসেননি। গত ২ জুন মিমির পরিবর্তে আদালতে এসেছিলেন তার আইনজীবী। তিনি একের পর এক তারিখ নিয়ে যাচ্ছেন আদালতের কাছ থেকে। এভাবেই তিনি গোটা ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অবশেষে আমার আইনজীবী ও বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি চার্জশিট গঠনের আবেদন করেন আদালতে।’
তনয়ের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কারণে তাকে জেলেও যেতে হয়েছে। তাই তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তনয় বলেন, ‘মিমি অন্যায় করেছেন, তার শাস্তি তাকে পেতেই হবে। আদালতে হাজিরা দিতে হবে ওকে। আমিও এর শেষ দেখে ছাড়ব। উনি অপরাধ করেছেন। বিনা অপরাধে আমাকে জেলে পাঠিয়েছেন। এর জন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।’
ঘটনার সূত্রপাত বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে। আয়োজকদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে অনুষ্ঠানে পৌঁছান মিমি চক্রবর্তী। তনয় শাস্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। সময় শেষ হয়ে আসায় তিনি অভিনেত্রীকে মঞ্চ থেকে নামতে অনুরোধ করেছিলেন। তনয়ের দাবি, তিনি কোনো অসম্মানজনক আচরণ করেননি। তবে অনুষ্ঠান শেষে মিমি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তনয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে জামিনে মুক্ত হয়ে মিমির বিরুদ্ধে বনগাঁ আদালতে দুটি মামলা করেন তনয় শাস্ত্রী। মামলাগুলোর একটি মানহানি এবং অন্যটি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি চুক্তিভঙ্গের অভিযোগও তোলা হয়েছে। অনুষ্ঠানের জন্য অগ্রিম দেওয়া ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ফেরত চেয়েছেন তনয়।