
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
রোববার (৭ জুন) রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মনির হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশে কয়েকজন নেতাকর্মী একত্রিত হন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে গোপন বৈঠক ও নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদকে। এছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল হাসান তন্ময় (৩০), কেরানীগঞ্জ মডেল থানা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি রানা মোল্লা (৪৫), কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপ্নিল হাসান কাজল, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন, জিনজিরা ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মো. সাইমন উদ্দিন, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়ামিন (৪০), কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য হাবিবুর রহমান (৫৫), বাস্তা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), রিয়াদ হোসেন শাওন (৩২), কোন্ডা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলু রহমান (৪৮), শুভাঢ্যা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য গিয়াস উদ্দিন মাসুদ (৩৫), ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওন হোসেন (৩২) এবং তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম (৩০)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ১০টি বাঁশের লাঠি ও ২০টি ভাঙা ইটের টুকরো জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির দেওয়া তথ্য এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশে সংঘবদ্ধভাবে তৎপরতার অভিযোগে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং তাদের আটকের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে।