গুজব-ভুয়া কনটেন্ট রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 3 hours ago

10

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর অপতথ্য রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান রাখা হবে।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১-এ জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

এসময় অধিবেশনে নোটিশটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অসংখ্য আইডি ও পেজ, সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিওর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের প্রধান, তার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতার নামে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলো আদৌ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে কি না, সেটি পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভার্চুয়াল মিডিয়া এবং অনলাইনভিত্তিক সব প্ল্যাটফর্মকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘সাইবার স্পেস’-এর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, সংশোধিত আইনে গুজব, অপতথ্য, মানহানি এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার প্রতিরোধে নতুন শাস্তির বিধান সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপমানজনক, বিরক্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আরো কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিধান আনা হবে।

সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান জানতে চান, মেটাসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আইনে সেই সুযোগ এখনো নেই। ফলে বিটিআরসি বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ অনুরোধ পাঠালেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নতুন সংশোধনীতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, সময়সীমাভিত্তিক কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্ট করা কনটেন্ট নিষ্পত্তির জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিটিআরসি, সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হবে। আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশে এখনো ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন দিয়ে জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অথচ প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জুয়ার বিস্তার ঘটেছে। এসব প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ সংসদের চলতি অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।