বাজারে আসছে রংপুরের সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম

: রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: 4 hours ago

9

স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় জিআই পণ্য স্বীকৃত রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম সোমববার (১৫ জুন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসছে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পশ্চিমে লালমাটি এলাকায় এই আমের চাষ করা হয়। আমটি খুবই সুস্বাদু। এ কারণে হাঁড়িভাঙ্গা আম সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ, ময়েনপুর, রানীপুকুর, বালুয়া মাসিমপুরসহ আশপাশের ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান। উপজেলায় ১২৬০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এছাড়াও, বাড়িতে পতিত জমিতে ব্যক্তিগতভাবে ও রাস্তার ধারে চাষ করা হয়েছে হাঁড়িভাঙা আমের চারা। এ বছর ১৫ হাজার ১২০ মেট্টিক টন আম উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছে কৃষি অধিদপ্তর। এবার ১২০ কোটির বেশি টাকা আয় হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন।

চলতি বছর রংপুর জেলায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে।

এরমধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলায় ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান আছে। যার সাম্ভব্য বিক্রয়মূল্য ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা।

মিঠাপুকুর উপজলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় সূত্রে গেছে, এই উপজলায় এক হাজার ২শ’ ৬০ হেক্টর জমিত হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে। এবার ১৫ হাজার একশ ২০ মেট্টিক টন হাঁড়িভাঙা আম উৎপাদন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। প্রত্যক মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি হাঁড়িভাঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয় থাকে। উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তকানী গ্রামর বাসিন্দা মরহুম নফল উদ্দিনের হাত ধরে ৩৮ বছর আগে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপত্তি হয়। স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় পরবর্তীতে উপজলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাব এই আমের বাগান গড়ে ওঠে।

বিশেষ করে খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ ও আশপাশের লাল মাটিতে উৎপাদিত হাঁড়িভাঙার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাই, এখানে এই আমের বিশাল হাট বসে। এছাড়াও পাশ্ববর্তী রানীপুকুর, ময়েনপুর, বালুয়া মাসিমপুর, বড়বালা, মিলনপুর, লতিবপুর, গোপালপুর, দুর্গাপুর ও চেংমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও বাণিজ্যিকভাব হাঁড়িভাঙা আমের বাগান গড়ে উঠেছে।

সরেজমিনে উপজলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, হাঁড়িভাঙা আমের সারি সারি বাগান। রাস্তার ধারে অসংখ্য বাগানে শোভা পাচ্ছে । যে দিকে চোখ যায়, শুধু হাঁড়িভাঙার বাগান। বিশাল হাট বসবে হাঁড়িভাঙ্গার নাভীখ্যাত পদাগঞ্জে। এছাড়াও, মিঠাপুকুর উপজলা সদর, রংপুর মহানগরীর কেন্দ্রীয় টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও চলবে জমজমাট বেচাকেনা।

জানা গেছে, সোমবার পদাগঞ্জহাটে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত করণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. পারভেজ এবং উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান হেকিমসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।

উপজলার ময়েনপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের আমবাগান মালিক রাকিবুল ইসলাম এক একর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আমার বাগানে ২০০ মতো গাছ আছে। এবার ১০০ মণ হাঁড়িভাঙা আম উৎপাদন হবে। প্রায় দেড় লাখ টাকা বিক্রি হতে পারে। গতবছর এর চেয়ে একটু বেশি বিক্রি হয়েছে।

স্থানীয় মোস্তফা আল মাসুদ চৌধুরী ১০ একর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে, দাম ভালো পেলে খুশি হবো।

আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ী, হযরত আলী এবং মন্ডল মিয়া বলেন, হাঁড়িভাঙা আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

পদাগঞ্জ এলাকার আম চাষি মোসাব্বির বকসি জানান, তিনি ৮ একর জমিতে আমের চাষ করেছেন। শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে, ভালো দাম থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে লাভের আশা করছেন তিনি।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম বলেন, মিঠাপুকুরে প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় লোকজন ধানি জমিতে আমের বাগান করছেন। গত বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এ বছর ১২০ কোটি টাকার বেশি হাঁড়িভাঙা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, সব মাটিতে এ আমের চাষ করা যায়। তবে এঁটেল ও দো-আঁশ মাটি এই আম চাষের জন্য বেশি উপযোগী।