এখনো বিয়েই করিনি, গণঅধিকারের কিছু নেতা গুজব ছড়াচ্ছেন : মনিরা শারমিন

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 4 hours ago

34

নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, ‘এখনো বিয়েই করিনি, গণঅধিকারের কিছু নেতা গুজব ছড়াচ্ছেন।’ শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত মাঝরাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।

স্ট্যাটাসে মনিরা লিখেছেন, ‘ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বর্তমান প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের নিয়ে বারবার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এর প্রতিবাদে আমি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। কারণ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমরা একসাথে আন্দোলন করেছি এবং পরবর্তীতে ২০২২ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, সে সময়ের নুরুল হক নুরসহ শীর্ষ নেতৃত্ব আমাদের আশাবাদী করলেও তাদের আপসকামী রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তরুণদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের নির্বাচিত জিএস ছিলাম।’

‘কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব রাজনৈতিকভাবে না দিয়ে, আওয়ামী আমলের পরিচিত অপপ্রচার কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। আমার রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাবে গণঅধিকারের কিছু নেতা আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ গুজব ছড়াচ্ছেন। এমনকি দাবি করা হচ্ছে, আমি নাকি কোনো ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করেছি এবং তার প্রভাবেই চাকরি পেয়েছি। বাস্তবতা হলো, আমি এখনো বিয়েই করিনি। ফলে এই ধরনের প্রচারণা শুধু মিথ্যাই নয়, হাস্যকরও বটে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘নারীর রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাবে তার চরিত্র হননের চেষ্টা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গভীর অসুস্থতা। যুক্তির মোকাবিলায় যুক্তি না থাকলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুৎসা রটনাই শেষ আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়। আমি এসব অপপ্রচারের জবাব দিতে বাধ্য হলাম শুধুমাত্র সত্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে। তবে যারা রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নিতে না পেরে গুজব ও চরিত্রহননের রাজনীতি বেছে নিয়েছেন, তাদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় যাওয়ার কোনো আগ্রহ আমার নেই। কারণ মিথ্যাকে খণ্ডন করা প্রয়োজন, কিন্তু মিথ্যাচারকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।’

এর আগে, মনিরা শারমিন এক ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলেন দাবি করে শনিবার রাত ৯টা ৮ মিনিটে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।

এখনো বিয়েই করিনি, গণঅধিকারের কিছু নেতা গুজব ছড়াচ্ছেন : মনিরা শারমিন

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মনিরা শারমিন আমাদের সঙ্গে ২০১৮ সালে কিছুদিন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। এরপর ক্যারিয়ার মুখ্য হয়ে উঠে তার কাছে। কথিত আছে, ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলেন মনিরা শারমিন। এরপর আর অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের শেষ দিকে এসে অনেকটা হাজিরা দিয়েই বড় নেত্রী বনে গেছেন। তার চেয়ে নুসরাত তাবাসসুমদের ভূমিকা হাজার গুণ বেশি। হাসিনার পতন না হলে মনিরা শারমিনরা এখনো আরামে সরকারি চাকরি করতেন। ফ্যাসিবাদের আচড়ও তাদের গায়ে লাগত না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘নুরুল হক নুর ১৯ সালে বলেছিলেন, শেখ হাসিনার চেহারায় মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অবশ্য এর পরের দিনই মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনাকে স্বৈরাচার বলেছিলেন। এমনকি অসংখ্য বার হাসিনার পতন চেয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। যার ফলে বার বার হামলার শিকার হয়েছেন নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের অসংখ্য নেতাকর্মী। সবশেষ জুলাই আন্দোলনের সময়ও নুরুল হক নুর রিমান্ডে ছিলেন। হাসিনার পতন না হলে নুরের কতদিন জেলে থাকা লাগত বা আদৌ মুক্ত হতো কি না তা বলা কঠিন।’