বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কুমিল্লার হোমনা, বিপাকে রোগী ও সাধারণ মানুষ

: কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 16 hours ago

32

কুমিল্লার হোমনায় টানা চার দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাতের ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

বিভিন্ন ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে কখন আসবে তার কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না। কয়েক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। এর ওপর মিনিটে কয়েকবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় ফ্রিজ, টেলিভিশন, আইপিএস ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গরমে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের টাওয়ারে নেটওয়ার্ক বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় জরুরি যোগাযোগেও সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। অনলাইনে ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ (গৌরীপুর-দাউদকান্দি) জোনের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, পুরো দেশের একই অবস্থা। গত তিন-চার দিনে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও আমাদের জানানো হয়নি।

হোমনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি চৌধুরী বলেন, হোমনায় বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। কিন্তু আমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও আমাদের কিছু জানানো হয়নি।

দাউদকান্দি গ্রিড সাবস্টেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রায়হান বলেন, চট্টগ্রামের একটি টার্মিনাল স্টেশন (গ্রিড সাব-স্টেশন) রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। এছাড়া গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে, সম্ভবত এর প্রভাব সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে।

টানা চার দিনের এই লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হোমনাবাসী। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত কারণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য জানানো হোক।