
ব্রিটিশ স্বাস্থ্য ও জীবাণুনাশক পণ্যের ব্র্যান্ড ডেটল চীনে প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিজ্ঞাপনটির উদ্দেশ্য ছিল ‘বিষাক্ত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার সমালোচনা করা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নারীদের প্রতি আপত্তিকর হিসেবে ব্যাপক সমালোচিত হয়।
বুধবার (২৪ জুন) দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মে মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করে ডেটল। সেখানে এক ব্যক্তিকে তার বর্তমান প্রেমিকার সঙ্গে সাবেক প্রেমিকার তুলনা করতে দেখা যায়। সাবেক প্রেমিকা আগে অন্য একজনের সঙ্গে বসবাস করতেন জানতে পেরে তিনি তাকে ‘ব্যবহৃত’ হিসেবে মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপনে ওই ব্যক্তি তার বন্ধুদের জানান, তিনি এমন একজন নারী খুঁজছেন, যার জীবনে তিনিই প্রথম সঙ্গী হবেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে কুমারী হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে এখন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। সে অন্যকোনো পুরুষের ছোঁয়া পায়নি।’
বিজ্ঞাপনের শেষ অংশে ওই ব্যক্তির নতুন প্রেমিকা তার মন্তব্য সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি তার নারী-বিদ্বেষী মনোভাবের সমালোচনা করে সম্পর্কের ইতি টানেন। পরের দৃশ্যেই ডেটলের পণ্যটি দেখিয়ে ভয়েসওভারে বলা হয়, ‘বিষাক্ত পুরুষও এসব জীবাণুর মতো। নিশ্চিন্ত থাকতে হলে ডেটল দিয়ে যেমন জীবাণু দূর করতে হয়, তেমনি তাদেরও দূর করতে হবে।’
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক ব্যবহারকারী মনে করছেন এই বিজ্ঞাপনে নারীদের পণ্য বা বস্তুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অসংখ্য মানুষ ইতোমধ্যেই ডেটল বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। পরে সমালোচনার মুখে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয় ডেটল।
ক্ষমা প্রার্থনা করে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডেটল জানায়, বিজ্ঞাপনটির লক্ষ্য ছিল ‘লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করা এবং সম্পর্ক ও জীবনধারা বিষয়ে ইতিবাচক ও আত্মবিশ্বাসী চিন্তা উৎসাহিত করা’। তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ক্লিপ মূল বার্তাকে বিকৃত করেছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
ডেটল আরও জানায়, বিজ্ঞাপনটি একটি তৃতীয় পক্ষের সংস্থা তৈরি করলেও এর বিষয়বস্তু তৈরি ও পর্যালোচনায় যে কোনো ত্রুটির দায় তারা স্বীকার করছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ‘প্রকৃত সুরক্ষা কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ও সমান আচরণ পাওয়ার অধিকার রক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত।’