
একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও গ্ল্যামারাস নায়িকা ছিলেন পপি। দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন তিনি। ফলে ভক্তদের অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, তিনি কি আর কখনো পর্দায় ফিরবেন? সেই প্রশ্নের জবাব এবার নিজেই দিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পপি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তবে একটি বিশেষ শর্তে তিনি আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারেন। আর সেটি হলো, তাকে নিয়ে নির্মিত একটি মানসম্পন্ন বায়োপিক।
পপি বলেন, ‘আমি আর কোনো সিনেমা, নাটক কিংবা বিজ্ঞাপনে কাজ করতে চাই না। এখন আমি আমার স্বামী ও একমাত্র সন্তান আয়াতকে নিয়েই সময় কাটাতে চাই। সুখী পারিবারিক জীবনই এখন আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
তবে নিজের জীবন নিয়ে নির্মিত কোনো বায়োপিক হলে সেখানে অভিনয়ের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তিনি। পপির ভাষায়, ‘কেউ যদি খুব সুন্দরভাবে আমার জীবন নিয়ে বায়োপিক নির্মাণ করতে চান, তাহলে অবশ্যই আমি অভিনয় করব। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম এবং চলচ্চিত্রজীবনের নানা অধ্যায় যদি সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়, তাহলে সেই কাজের অংশ হতে চাই।’
তবে শুধু বায়োপিক হলেই হবে না, সেটি হতে হবে ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে পপি বলেন, ‘কোনোরকম একটি বায়োপিকে আমি কাজ করতে চাই না। দেশ-বিদেশে আমার অনেক ভক্ত আছেন। তাদের প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখেই বলতে চাই, যদি কখনো ফিরি, তাহলে সেটি যেন সত্যিই স্মরণীয় একটি কাজ হয়।’
অভিনেত্রী আরও জানান, একসময় চলচ্চিত্রে যেমন মৌসুমী ও শাবনূর-এর দাপট ছিল, তেমনি তিনিও নিজের সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। একইভাবে পূর্ণিমা-ও দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তাই নিজের জীবনভিত্তিক কোনো কাজ হলে সেটি যেন মানসম্পন্ন হয়, সেটিই তার চাওয়া।
উল্লেখ্য, পপি সর্বশেষ সাদেক সিদ্দিকী পরিচালিত ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশান’ সিনেমায় অভিনয় করেন। এরপর আর নতুন কোনো সিনেমায় তাকে দেখা যায়নি। ক্যারিয়ারে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন থেকে শতাধিক সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বর্তমানে অভিনয়জগত থেকে দূরে থাকলেও একটি ব্যতিক্রমী বায়োপিকই হতে পারে তার প্রত্যাবর্তনের একমাত্র উপলক্ষ।