
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের বেলাই দাখিল মাদ্রাসা ও স্থানীয় গ্রামবাসীর প্রধান চলাচলের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকার বাসিন্দা, কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেলাই দাখিল মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সরকারি স্বীকৃতি না পাওয়ায় পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে একপর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মাদ্রাসাটি বন্ধ হওয়ার পর এর সঙ্গে সংযুক্ত প্রধান সড়কটিও ধীরে ধীরে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেঙে নষ্ট হয়ে পড়ে এবং একসময় সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে।
গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে এলাকার সচেতন ও উদ্যোগী গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কার কাজে অংশ নেন। স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাস্তার বিভিন্ন গর্ত ভরাট ও মেরামতের মাধ্যমে সড়কটিকে পুনরায় সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
তবে গ্রামবাসীরা বলছেন, বর্তমান সংস্কার কার্যক্রম কেবল একটি অস্থায়ী সমাধান। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই রাস্তার বেহাল অবস্থা আবারও ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও পাকা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব আব্দুল জলিল বলেন, “বেলাই দাখিল মাদ্রাসা যখন চালু ছিল, তখন এই রাস্তা কিছুটা হলেও চলাচলের উপযোগী ছিল। কিন্তু মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে এবং বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এখন গ্রামবাসীর সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার সংস্কার করা হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব মহির মন্ডল, মো. আজিজুল হোসেন, দিলবর মন্ডল, দুলাল উদ্দিন, মোস্তফা, তোবিজ, আবুল আলিম, আমিরুল, জাহিদুল ইসলাম ও শাহিনুরসহ এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, বেলাই দাখিল মাদ্রাসার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার ও পাকা নির্মাণ করা জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
গ্রামবাসীরা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন ও পাকা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে রাস্তাটি পাকা করা হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও বাজারজাত করন সহজ হবে, শিক্ষার পরিবেশও আরও সমৃদ্ধ হবে।