
চলতি জুন মাসেই আকাশে দেখা যাবে গ্রীষ্মের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদ বা ‘স্ট্রবেরি মুন’। দিগন্তের খুব কাছাকাছি অবস্থান করায় এ সময় চাঁদটি অনেকের কাছে সোনালি বা অ্যাম্বার রঙের বলে মনে হতে পারে।
নামের সঙ্গে ‘স্ট্রবেরি’ থাকলেও চাঁদটি গোলাপি বা লাল রঙের হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, ‘ফুল স্ট্রবেরি মুন’ নামটির উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অ্যালগনকুইন আদিবাসীদের কাছ থেকে। জুন মাসে স্ট্রবেরি পাকার মৌসুম শুরু হওয়ায় তারা এ পূর্ণিমার এমন নামকরণ করেছিলেন। খবর এনডিটিভির।
নাসা জানায়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নামটি প্রচলিত রয়েছে। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এই পূর্ণিমা ‘রোজ মুন’ বা ‘হানি মুন’ নামেও পরিচিত, যা গ্রীষ্মের শুরুর দিকের ফসল সংগ্রহের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এ বছরের ‘স্ট্রবেরি মুন’ উত্তর গোলার্ধে ২১ জুনের পর প্রথম পূর্ণিমা। এ কারণে ২০২৬ সালের অন্যান্য পূর্ণিমার তুলনায় এটি আকাশে সবচেয়ে নিচু পথে অতিক্রম করবে এবং পুরো রাতই দক্ষিণ দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করবে।
কখন দেখা যাবে?
বাংলাদেশে এই পূর্ণিমা দেখার সবচেয়ে ভালো সময় হবে ২৯ জুন সন্ধ্যা। সেদিন সূর্যাস্তের পর দক্ষিণ-পূর্ব দিগন্তের দিকে তাকালেই সবচেয়ে ভালোভাবে চাঁদটি দেখা যাবে।
ভারতীয় সময় ৩০ জুন ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে পূর্ণ আলোকিত অবস্থায় পৌঁছাবে ‘স্ট্রবেরি মুন’। তবে সবচেয়ে ভালোভাবে এটি দেখা যাবে ২৯ জুন সন্ধ্যায়, চাঁদ ওঠার কিছুক্ষণ পর।
খালি চোখে ২৮, ২৯ ও ৩০ জুন এ তিন রাতই চাঁদটিকে প্রায় পূর্ণিমার মতো দেখা যাবে। ফলে কোনো একদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও অন্যদিন দেখার সুযোগ থাকবে।
যেভাবে সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে
পূর্ণিমার এ চাঁদ এতটাই উজ্জ্বল যে এটি দেখতে দূরবীনের প্রয়োজন নেই।
খোলা জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করলে সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে। ছাদ, নদীর তীর বা সমুদ্রসৈকত থেকেও চাঁদ উপভোগ করা যেতে পারে।
নিজ শহরের চাঁদ ওঠার সময় জানতে আবহাওয়া বা জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। চাঁদ ওঠার ঠিক পরের সময়টিই সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখা যায়। পাশাপাশি পরিষ্কার আকাশ থাকলে দৃশ্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করা সম্ভব।